মেইন ম্যেনু

আকাশে মেঘ দেখলেই যে বিদ্যালয়ে বাজে ছুটির ঘন্টা!

আরমান জাহান চৌধুরী, মদন ( নেত্রকোনা) : কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হওয়ায় নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে বসেই চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, আকাশে মেঘ দেখলেই বাজে বিদ্যালয়ের ছুটির ঘন্টা। ফলে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে মনিকা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১ জানুয়ারী ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি (তৃতীয় ধাপে) জাতীয়করণ করা হয়। টিনের ছাউনি ঘরেই চলে আসছিল বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। গত ১১ মে শুক্রবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের ঘরটি উড়িয়ে বহু দূরে নিয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বছরের অর্ধেক সময়ে ঝড়ে বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ধরে রাখার লক্ষ্যে চারজন শিক্ষক শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন তহবিল না থাকায় এর নির্মাণ কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভূগছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আওয়াল,বায়োজিদ,শারমিন,নাজিরুল,৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাত্রী,তায়াবা,প্রেমা,২য়শ্রেণীর শিক্ষার্থী শরীফ,আরিফা,১ম শ্রেণীর আছমা,আরমান জানান, গত কয়েকদিন ধরেই রোদ্রে বসেই লেখাপড়া করছি। আকাশে মেঘ দেখলেই ছুটির ঘন্টা বাজে। রোদ গরমে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ১১ মে শুক্রবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে আমার বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে পড়ায় শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি । বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন তহবিল না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিকা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাঠদানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য অফিসে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন । তার আবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা উন্নয়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়ালীউল হাসান জানান, মনিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলায় একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি মেরামত করে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য চালু নেই