মেইন ম্যেনু

আবার আ.লীগের জয় দেখছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের আভাস দিচ্ছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই রিসার্চ। তারা মনে করছে, জনসমর্থনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ক্ষমতাসীন দল।

শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলটির শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। আর এতে তাদের নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে গেছে। এই ‘দুর্বল নেতৃত্ব’ নিয়ে তারা আওয়ামী লীগের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর থেকে টানা ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। অবশ্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সহজ জয় পেয়েছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের কারণে।

বিএনপি অবশ্য দাবি করছে, সরকার এখন আর জনপ্রিয় নয়। তারা প্রশাসনের ওপর ভর করে টিকে আছে।

তবে আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদে দেশে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে আর এর অর্জন এর আগের যে কোনো ১০ বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

এই সময়ে দেশের বাজেটের আকার সাত গুণ হয়েছে, মাথাপিছু আয় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে, মোট দেশজ উৎপাদন চারগুণেরও বেশি বেড়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার পাঁচ এর ঘর থেকে আট ছুঁই ছুঁই, বিদ্যুতের গ্রাহক ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৩ শতাংশ, বেড়েছে গড় আয়ু, দারিদ্র্যের হার ৩১ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রাথমিক যোগ্যতাও অর্জন করেছে দেশ। নিম্ন আয় থেকে বের হয়ে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে এই সময়ে।

সরকার বেশ কিছু মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু করেছে যেগুলো শেষ হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আর আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে আরও বেশ কিছু বড় বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকার দাবি করছে, এই উন্নয়ক কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে সরকারের।

বিএমআই রিসার্চ বলছে, ভোটের বছরের বাজেটে গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তার ফলও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পাবে।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ভর্তুকি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলতায় যথাক্রমে ২৭.৯, ২৪.৮ ও ৮.৯ শতাংশ বাড়িয়েছে। এটা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখবে বলে গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে।

গবেষণা সংস্থাটি বলছে গত মে ও জুন মাসে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বড় জয় বিএনপির সমর্থন কমার আভাস।

সংস্থাটির স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর একশর ভেতরে ৫৮.১।

বিএনপির নেতৃত্ব দুর্বল হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার পর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আওয়ামী লীগের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করে না বিএমআই রিসার্চ।

সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এবং দেশে বহু নেতা গ্রেপ্তার থাকায় বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অবস্থা এর উল্টো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সাল থেকে দলটির নেতৃত্বে আছেন। তাকে বেশ শক্তিশালী নেতা হিসেবেই দেখছে সংস্থাটি।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আভাস

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের মতোই এবারও ভোটের আগে সহিংতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএমআই রিসার্চ।

নির্দলীয় নির্বাচনাকীন সরকারের দাবিতে চার বছর আগে দেশে নানা সহিংস কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তাদের দাবি এবারও সরকার পাত্তা দিচ্ছে না। যদিও সেই দাবি জানিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোটে না যওয়ার কথা বলে যাচ্ছেন নেতারা।

এই পরিস্থিতিতে বিএমআই রিসার্চ বলছে, ‘ফলে ২০১৪ সালের মত এবারও বিএনপির নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে-পরে তাদের সহিংস আন্দোলনের সম্ভবনাও আমরা নাকচ করতে পারছি না।’



মন্তব্য চালু নেই