মেইন ম্যেনু

আরব আমিরাতে ২ হাজার বাংলাদেশির ভাগ্য অনিশ্চিত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উদাসীনতায় সময়মতো পাসপোর্ট হাতে না পেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির বৈধ হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধ হতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদনের তিন মাস পার হয়ে গেলেও তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট হাতে পাননি।

ফলে তারা বৈধতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না। অথচ আবেদনের শেষ দিন আগামী ২৮ নভেম্বর। এর মধ্যে পাসপোর্ট না পেলে তাদের ভাগ্যে কী পরিণতি রয়েছে তা ভেবে চরম হতাশায় ভুগছেন এসব অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশি। এ নিয়ে এখানকার বাংলাদেশ মিশন কর্মকর্তারাও বিচলিত।

আগারগাঁও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উদাসীনতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রবাসীরা অভিযোগ করছেন। শত শত প্রবাসী এমআরপি পাসপোর্ট না পেয়ে প্রতিদিন ধরনা দিচ্ছে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে। মিশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

প্রবাসীদের কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনদের কাউকে পাঠিয়ে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশে ধরনা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসতে পারলেও বাকিরা উপায়ান্তর না দেখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের দ্বারে দ্বারে।

বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা গেছে, কর্মকর্তারাও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রতিনিয়ত চিঠি পাঠাচ্ছেন। কিন্তু তাতে এখনো আশানূরূপ ফল মেলেনি।

অপরদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আরো এক মাস সময় চেয়ে আমিরাত সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে রেখেছেন। তবে এ আবেদন আমিরাত সরকার মঞ্জুর করবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে দুবাইয়ের কনস্যুলেট বাংলাদেশে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে থাকা ৭৮৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি আটকে থাকা পাসপোর্টের সংখ্যা চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রবাসীদের। বাংলাদেশি কনস্যুলেটে এসে যারা অভিযোগ করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের ১৭৩ জন, কুমিল্লার ১৪৭, কক্সবাজারের ৬৪, হবিগঞ্জের ৪১, সিলেটের ৪০, লক্ষ্মীপুরের ২৭, মৌলভীবাজারের ২৪, ঢাকার ২৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২২, ময়মনসিংহের ১৬, নোয়াখালীর ১৫, গাজীপুরের ১৫, মানিকগঞ্জের ১৪, নারায়ণগঞ্জের ১৩, ফরিদপুরের ১২, সুনামগঞ্জের ৮, টাঙ্গাইলের ৯, শ্রীপুরের ২, শরীয়তপুরের ৬, রাজশাহীর ২,পটুয়াখালীর ৫, পাবনার ২, নাটোরের ২, নওগাঁর ১, মেহেরপুরের ১, মাগুরার ১, মাদারীপুরের ১, কুষ্টিয়ার ৩, কিশোরগঞ্জের ৬, খুলনার ২, জয়পুরহাটের ১, ঝিনাইদহের ৩, ঝালকাঠির ২, যশোরের ৬, গোপালগঞ্জের ৩, গাইবান্ধার ১, ফরিদপুরের ৬, দিনাজপুরের ১, চুয়াডাঙ্গার ৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭, চাঁদপুরের ৯, বগুড়ার ১, ভোলার ১, বরিশালের ৯, বরগুনার ৩, বান্দরবনের ১, বাগেরহাটের দুজন। এর বাইরেও আবুধাবি দূতাবাসের পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য মিলে বিপর্যয়ে পড়া প্রবাসীর সংখ্যা দুই হাজারের মতো।

এদিকে দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে অপেক্ষারত প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের একেকজন সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধ হতে এমআরপি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় তিন মাস পার হয়ে গেছে। কেউ কেউ পুলিশের কাছে গিয়ে তদবির করেছেন বলেও জানান। অনেকের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আগারগাঁওয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ এবং সেমতে অনলাইন সিস্টেমে পুলিশ অ্যাপ্রুভাল দেখানোও হচ্ছে। তবে পাসপোর্ট হাতে পেতে কতদিন লাগবে তা জানার উপায় নেই। এভাবে অনিশ্চয়তার দোলাচলে সাধারণ প্রবাসীদের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে ঢাকার আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে।



মন্তব্য চালু নেই