মেইন ম্যেনু

আরাকান আর্মি-সেনাবাহিনীর যুদ্ধে আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ বিদ্রোহী মধ্যে ঘন ঘন সংঘর্ষে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিপদাশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের সীমান্তে নো ম্যান’স ল্যান্ডে থাকা বসবাসরত এসব রোহিঙ্গা লড়াই আরও তীব্রতর হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানায় কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জাতিনিধন অভিযান থেকে পালিয়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিলেও, কিছু রোহিঙ্গা দুই দেশের সীমান্তের মাঝে নো ম্যান’স ল্যান্ডে রয়েছে, যারা বাড়িতে ফিরতে বা কোনও আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না।

এখন তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ বিদ্রোহী দল আর আরাকান আর্মির মধ্যেকার সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানায় আলজাজিরা।

বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত রাখাইনে স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে লড়াই চালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।

‘মিয়ানমারের ভিতরে সরকার এবং আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে,’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ।

‘সেখানে পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ’ জানিয়ে তিনি বলেন নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রতিদিনের গোলাগুলিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত সপ্তাহে আরকান আর্মির হামলায় সীমান্তের কাছে ১৩ জন পুলিশ নিহত হওয়ার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে বাঙ্কার স্থাপন করেছে।

সেনাবাহিনীর এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিছু জায়গায় সীমান্তের কাছে একটি নদী বরাবর বসানো বেড়ার একদম কাছে রয়েছে। তার ঠিক পাশেই রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের বস্তি। সামান্য এক চিলতে জমিতে বসবাস করছে তারা।

উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীটির নেতা নুর আলম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ধ্যার পর প্রায়ই গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায়।

‘প্রতি রাতে খুব কাছেই লড়াই হয়। মিয়ানমার বর্ডার গার্ড আমাদের ক্যাম্পের কাছে ১০টি নতুন পোস্ট বসিয়েছে। এটা খুবই ভীতিকর,’ এএফপিকে বলেন তিনি।

গত সপ্তাহে আরাকান আর্মি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, তারা উত্তর রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে বুধবার জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির একজন সমন্বয়ক নুট অস্টবি ‘সব পক্ষকে বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি সব পক্ষকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে উদ্যোগী হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন ওই বিবৃতিতে।

বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে অবহিত আছেন।

‘আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করব,’ বলেন স্থানীয় কর্মকর্তা কামাল হোসেন।



মন্তব্য চালু নেই