মেইন ম্যেনু

এই রায় প্রধান বিচারপতির নয় : বিচারপতি শামসুদ্দিন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা লিখেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেছেন, ২৪ দিনে এত বড় রায় লেখা সম্ভব নয়। এটা প্রধান বিচারপতি লেখেননি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাধীনতা পরিষদ নামের একটি সংগঠনের আলোচনায় এই কথা বলেন শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) মাত্র ২৪ দিন সময়ের মধ্যে ৪০০পৃষ্ঠার কথা লিখেছেন, এটা ইমপসিবল, এটা হতে পারে না। এটা তার লেখা রায় মোটেও নয়।’

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে এনে করা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেয়। আর ১ আগস্ট প্রকাশ হয় ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়। এই রায়ে ষোড়শ সংশোধনী প্রসঙ্গ ছাড়াও শাসন ব্যবস্থা, সংসদসহ নানা বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয় যা ক্ষুব্ধ করে তুলেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগকে।

গত কয়েকদিন ধরেই সরকার এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ ব্যক্তিরা এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তীব্র সমালোচনা করছেন প্রধান বিচারপতির। এর মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেন, এই রায় একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক লিখে দিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, ‘তার লেখা রায় পড়লে আপনারা দেখতে পাবেন, অনেক শব্দ আছে যেসব শব্দ তার লেখা আগের কোনো রায়ে নাই। অর্থাৎ এটা পরিষ্কার, এই রায় তার লেখা নয়। অন্য কেউ লিখে দিয়েছে, সম্ভবত পাকিস্তানি কোনো আইএসআই লিখে দিয়েছে।’

অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বিচারপতি সিনহার তীব্র সমালোচনা করে আসছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়েও প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রধান বিচারপতির এই রায় নিয়ে রাজনীতি করেছেন। আর এসব করে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন। আর এ কারণে তার পদ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

‘তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বা না, এই দেশ ছাড়তে হবে। তুমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার কর না, এ দেশে থাকার কোনো অধিকার তোমার নাই।’






মন্তব্য চালু নেই