মেইন ম্যেনু

এক ইউএনও’র পদক্ষেপ স্বাবলম্বী অনেক ভিক্ষুক

কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলায় ভিক্ষুকরা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে তাদের ইচ্ছানুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। তাদের অলস হাত পরিণত হচ্ছে কর্মীর হাতে।

ইতোমধ্যে ভিক্ষুকরা ক্ষুদ্র ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হচ্ছে বলে জানা গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার ভিক্ষুকরা ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসারের খরচ যোগান দিচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন ভিক্ষুককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী প্রয়োজনীয় মুরগীসহ খাঁচা ও মুরগীর খাদ্য, হাঁসসহ খাঁচা, খাঁচাসহ শুকটি, কুটির শিল্পের কাজ, শাড়ী কাপড় বিক্রি, পানের দোকান, চা-চিনিসহ চায়ের সরঞ্জাম ও ভ্যান গাড়িতে রসুন-পিঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রির জন্য পুঁজি দেয়া হয়েছে। যাতে করে ভিক্ষুকরা এ ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা আত্মনির্ভরশীল ও লাভবান হবে।

গতকাল সকালে শহরে ভিক্ষারত অবস্থায় আসমানী নামের এক ভিক্ষুককে নিয়ে এসে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তবে নিজে ভালো করতে পারেনা এমনকি নিজে ভালোভাবে পায়ে হেটে চলতে পারে না বলে পেটের তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি করেন বলে জানায় সেই ভিক্ষুক।

পরে তাকে উপজেলায় নিয়ে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবাদত হোসেন পিঠার ব্যবসা পরিচালনা করে স্থায়ীভাবে পূনর্বাসিত করার লক্ষ্যে ৫হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

স্বাবলম্বী হওয়া এসব ভিক্ষুক জানান, তারা এতদিন ভিক্ষা করে ভুল করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেন তাদের ভিক্ষাবৃত্তির অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তাদের অলস হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করেছেন। এ জন্য তারা ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেন জানান, ভিক্ষুক মুক্তকরণ, কর্মসংস্থান ও পূনর্বাসন করতে আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যার ফলে স্বল্প পুঁজিতে অল্প সময়ে এসব ভিক্ষুকের অলসের হাত কর্মীর হাতে রূপান্তর দেশের জন্য অনন্য একটি দৃষ্টান্ত। ভিক্ষুকদের সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসার কাজ মনিটরিং করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।



মন্তব্য চালু নেই