মেইন ম্যেনু

এবার লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ গ্রেফতার

ব্যারিস্টার ও প্রগতিশীল লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়েছে। দুপুর দুইটায় তাকে আদলতে তোলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী বলেন, বুধবার সকালে তাকে ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, ইমতিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ২০১৭ সালে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইমতিয়াজ মাহমুদের বড় ভাই পারভেজ মাহমুদ বলেন, সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে কোর্টে যাওয়ার পথে গুলশান জোনের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে দেখা করতে বলেন, পরে ইমতিয়াজকে বনানী থানায় নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তিনি বলেন, ইমতিয়াজকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়েছে। দুপুর দুইটায় তাকে আদলতে তোলা হয়েছে। তারপর আমরা সবকিছু জানতে পারব। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কাউকে দেখা ও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইমতিয়াজ মাহমুদ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা, প্রগতিশীল লেখক ও আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সোচ্চার মুখ।

কবি হেনরি স্বপনকে নিয়ে ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাসে ইমতিয়াজ মাহমুদ লিখেছিলেন, “না, কবিকে ধরে জেলে পুরে রেখেছে। মুখটা খারাপ করতে ইচ্ছা করে। কি করবো। অস্থির লাগে, লজ্জা লাগে, একটু শঙ্কাও হয়। কোথায় যাচ্ছি আমরা। অন্ধকার গহ্বরে? আমাদের কি পা উল্টে গেছে ভূতের মতো? যতই দৌড়াই ততোই কি আমরা পেছনেই যাই? ধ্যাত।” এর ৮ ঘন্টা পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করল।

ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ তীব্রভাবে এর নিন্দা জানায়। তারা জানায়, অবিলম্বে ইমতিয়াজ মাহমুদ কে মুক্তি দিতে হবে।

ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বামপন্থী ও মুক্তমনা লেখকরা।

তাদের দাবি বাক-স্বাধীনতার ওপর এরকম আক্রমণ ও হেনস্থা কিছুতেই কাম্য নয়। কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী ও বিবেক বর্জিত কোনো রাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।

২০১৭ সালের ২১ জুলাই ইমতিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে ফেসবুকে উসকানিমূলক লেখালেখির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল।



মন্তব্য চালু নেই