মেইন ম্যেনু

এবার শ্রীলঙ্কায় এক অদ্ভুতুড়ে স্পিনারের আবির্ভাব!

অজন্তা মেন্ডিস, সাচিত্রা সেনানায়েকের পর এবার শ্রীলঙ্কায় আরেক রহস্যময় স্পিনারের খোঁজ মিলেছে। তবে এই স্পিনার যতোটা রহস্যময়, তারো চেয়ে অনেক বেশি অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশনের চায়নাম্যান। ইতিহাস বিখ্যাত পল অ্যাডামসের কিংবা আইপিএলের আবিস্কার শিভিল কৌশিকের সাথেই যার অ্যাকশনটা খুব বেশি মিলে যাচ্ছে! নাম তার কেভিন কোথথিগোদা।
.
দক্ষিণ আফ্রিকার চায়নাম্যান পল অ্যাডামসের অ্যাকশন ছিল একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশের সাবেক কোচ এডি বারলোই তাকে বিশ্ব অঙ্গনে টেনে এনেছিলেন। এবং অল্প সময়েই ওই একেবারে স্বতন্ত্র অ্যাকশনের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারটা দীর্ঘ হয়নি তার। মাত্র এক মৌসুম আগে অনেকটা পল অ্যাডামসের মতো অ্যাকশনের শিভিল কৌশিক আইপিএল দিয়ে নিজেকে জানান দেন। এখন পর্যন্ত একেবারে ভিন্নধর্মী চায়নাম্যান অ্যাকশনের জন্যই এই দুজনকেই উদাহরণ মানা হয়। কৌশিকের অবশ্য এতোটা বিকাশ হয়নি এখনো।

সবাই লঙ্কান এই কেভিনের প্রসঙ্গ টেনে তুলে আনছেন পল অ্যাডামসের কথাই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ১৮ বছরের এই বোলার অ্যাডামসকে খেলতেই দেখেননি। এমনকি তিনি কদিন আগেও জানতেন না দক্ষিণ আফ্রিকান ওই আনঅর্থোডক্স বোলার তার দিনে কিভাবে বোলিং করতেন। ডেলিভারিই বা ছিল কেমন!
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ম্যাগাজিনের কাছে কেভিন জানিয়েছেন আসলে কোনো চেষ্টায় এমন অ্যাকশন হয়নি তার। এটা তার সহজাত। ছেলেবেলা থেকেই এভাবে বল করে আসছেন। কেভিনের কথায়, ‘আমি আসলে কখনোই অ্যাডামসের বোলিং দেখিনি। আমার এই অ্যাকশন একেবারেই সহজাত। আমাকে নিজে থেকে কিছু করতে হয়নি। না আমি কাউকে অনুসরণ করেছি। এটা হয়ে গেছে।’

তার মানে প্রকৃতিপ্রদত্ত। আর সেই প্রকৃতির দান নিয়ে কলেজ পড়ুয়া কেভিন এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ঢুকে পড়েছেন। সামনে আরো বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ছুটতে শুরু করেছেন। এই ছেলের পরিবারের আবার ক্রিকেটারের সাথে তেমন কোনো সম্পর্কই ছিল না। ব্যবসায়ী পরিবার। ক্রিকেটটা কিভাবে যেন কেভিনের রক্তেই আছে। আর তার বাবাও ছেলেকে ব্যবসার দিকে না টেনে ক্রিকেটেই উৎসাহ দিয়ে গেছেন। খেলা দেখতে এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়ান।
বাবার ওই খেলা দেখার নেশাটাই হয়তো অবুঝ বয়সেই কেভিনের মধ্যে দাগ কেটে দিয়েছে। অদৃশ্য সেই দাগ তাকে তুলে এনেছে একেবারে অন্যরকম একজন বোলার হিসেবে। কেভিনের বড় ভাই চানু জানিয়েছেন, ‘আসলে বাবা ক্রিকেটের খুব বড় ফ্যান। ওটারই প্রভাব পড়েছিল কেভিন ও আমার আরেক ছোটো ভাই ইউরির ওপর। ক্রিকেট টেনেছে তাদের। কেভিন মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই খেলে আর তখন থেকেই ওর বোলিং অ্যাকশন এমন।’

কেভিন তো লাইমলাইটে চলেই এসেছেন। এখন শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ কিংবদন্তি চামিন্দা ভাসের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করেন। তার কাছ থেকে নানা টিপস নিয়ে নিজেকে আরো ধারালো করে তোলার চেষ্টায়। সেই সাথে স্বপ্ন দেখছেন, এভাবে খুব শিগগিরই হয়তো শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেলে ধরতে পারবেন নিজেকে।






মন্তব্য চালু নেই