মেইন ম্যেনু

ওষুধের হাই পাওয়ার-লো পাওয়ার বলতে কী বুঝব?

ডা. সজল আশফাক : বিজ্ঞের মতো অনেক সময় আমরা এমন কিছু বলি, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। ঠিক এ রকম ভুল ধারণা রয়েছে ওষুধের হাই পাওয়ার-লো পাওয়ার নিয়ে। আসলে কি ওষুধের হাই পাওয়ার-লো পাওয়ার বলে কিছু আছে? অনেরই ধারণা, হাই পাওয়ার ওষুধের কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়েছে কিংবা অমুক রোগটির জন্য হাই পাওয়ার ওষুধ দরকার অথবা শিশুদের হাই পাওয়ারের ওষুধ দেয়া যায় না।

আসলে হাই পাওয়ার সম্পর্কে এসব ধারণার কোনোটিই যথার্থভাবে ঠিক নয়। সত্যিকার অর্থে হাই পাওয়ার বলতে কোনো ওষুধের অতিরিক্ত ডোজকে মনে করা যেতে পারে। হাই পাওয়ার বলতে বিশেষ কিছু ওষুধকে বোঝায় না। তবে সাধারণত লোকজন হাই পাওয়ার ওষুধ বলতে বিশেষ কিছু ওষুধকেই বুঝে থাকেন। কেউ কেউ হাই পাওয়ারের ওষুধ বলতে নতুন জেনারেশনের ওষুধ বুঝিয়ে থাকেন। সাধারণের এসব ধারণা ঠিক নয়। অতি সাধারণ কিছু ওষুধ, যেমন—প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড এগুলোও যদি অতিমাত্রায় সেবন করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

এমনকি এ ধরনের অনেক সাধারণ ওষুধই অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতিসাধন করতে পারে। একইভাবে বলা যায়, অনেক দামি ওষুধ, দুষ্প্রাপ্য ওষুধ কিংবা নতুন জেনারেশন অ্যান্টিবায়োটিক বা যেকোনো ওষুধের স্বাভাবিক মাত্রায় কোনো জটিলতা সৃষ্টি করার কথা নয়। তবে ওষুধের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে অনেক সময় অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় ভয়ংকর হয়। তবে এই প্রতিক্রিয়া তথাকথিত হাই পাওয়ারের জন্য হয় না। কোন ওষুধের কার প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, সেটি আগে থেকে বলা মুশকিল। অর্থাৎ খাওয়ার পরই সেটি বোঝা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ওষুধ, যা তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে নিষেধ করা হয়, সেগুলো বাদ দিয়ে যেকোনো ওষুধ যথার্থ ডোজে শিশুকে দেওয়া যাবে। মনে রাখবেন, রোগ যত মারাত্মক হোক, ওষুধ সেই রোগের জন্য যথার্থতা বিবেচনা করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে হাই পাওয়ার-লো পাওয়ারের কোনো প্রসঙ্গের স্থান নেই।

নির্দিষ্ট রোগের জন্য ওষুধও নির্দিষ্ট। কিছু ওষুধ দেওয়া হয় উপসর্গ বিবেচনা করে। অনেক সময় কোনো কোনো ওষুধের প্রতি রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করতে সক্ষম, সেটিকেই প্রয়োগ করা হয়। কাজেই রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে হাই পাওয়ার-লো পাওয়ার কোনো ব্যাপার নয়, সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করাটাই আসল ব্যাপার।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।






মন্তব্য চালু নেই