মেইন ম্যেনু

কাজের প্রতি মায়া থাকলে মানুষ অল্প সময়ে বহুদূর যেতে পারে : রোকন রাইয়ান

রোকন রাইয়ান। একজন সৃজনশীল তরুণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাল্টে নিচ্ছেন নিজেকে। কাজ করছেন দুই হাতে। সামর্থের সবটুকু দিয়েই আমরা কাজের মাঠে দেখি তাকে। হয়তো সেটিই অল্প সময়ে তাকে তুলে ধরছে অনেক বেশি।

মাসিক রাহমানী পয়গামে কাজ শুরু করেছিলেন। বছর পেরুতেই পাক্ষিক মুক্ত আওয়াজ। সে সাফল্য নিয়ে এলেন সাপ্তাহিক লিখনীতে। তারপর দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, অনলাইন আমাদের সময় ডটকম। এখন প্রতিমূহূর্তের সংবাদ আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহক তিনি।

রোকন রাইয়ানের প্রাতিষ্ঠানিক লেখালেখি শুরু পড়াশোনা শেষে। ২০১০ সালের দিকে লেখালেখি শুরু করেন। বই হয়েছে তিনটি। তার চেয়ে বড় ব্যাপার মিডিয়ায় কাজের ফাঁকে তিনি গড়ে তুলেছেন অসংখ্য তরুণকে। যারাও এখন লিখছেন সমানতালে।

রোকন রাইয়ানের জন্ম ১৯৮৮ সালের ২ মে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার লয়খা গ্রামে। লেখালেখির পাশাপাশি সামাজিক কাজ কর্মেও দেখি তাকে। বন্ধুঘর নামের পাঠাগার গড়ে তুলেছেন এলাকায়। যেটি বই পড়ানোসহ নানা সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন।

ইসলামি ঘরানার অনলাইন মিডিয়া যখন আমাদের পাঠক মহলে অপরিচিত। তখন তিনিসহ কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে নামলেন আওয়ার ইসলাম নিয়ে। মাত্র এক বছরের মাথায় বিপুল সাড়া পেল। সমাদ্রিত হলো সব মহলে। তরুণ স্বপ্নচারী এ মানুষটির জীবনের গল্প ও সাফল্যের রহস্য জানতে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: প্রথমেই আপনার শৈশব সম্পর্কে কিছু জানতে চাই?

রোকন রাইয়ান: আমার শৈশবের পুরোটাজুড়ে আছে ছাত্রাবাস। খুব ছোটবেলায় আমাকে বাবা রেখে এসেছিলেন শহরের এক মাদরাসায়। তাইসির জামাতে (ক্লাস ফাইভে) যখন উঠেছিলাম। সেখানেই অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে বড় হয়েছি। যদিও তারা পরিচিত হয়ে গেছেন একসয়। কিন্তু এটাতো সত্য এলাকার শিশুকিশোরদের সঙ্গে শৈশব যতটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠে সেরকমটা ছাত্রাবাসে হয়ে উঠে না। সেখানে পড়াশোনার চাপ আর বাধ্যতামূলক একটা সম্পর্কের সুতোর বাঁধনে শিশু কিশোরদের থাকতে হয়।

ছাত্রাবাসের দিনগুলো খুব কষ্টের ছিলো। যে বয়সে মায়ের হাতের রান্না কিংবা প্লেটে ভাত মেখে না দিলে ঠিকমতো খাওয়া হতো না তখন অন্যের বাড়িতে লজিং থাকা কিংবা বোর্ডিংয়ের পাতলা ডালের সঙ্গে লাল মরিচের আলুভর্তা খেয়ে বেড়ে ওঠা কঠিন। একবছর আমি একটা বাড়িতে লজিং ছিলাম। প্রচ- লাজুক ছিলাম বলে কারো দিকে সেভাবে তাকাতেই পারতাম না। তাই ভাত খেতাম নিচের দিকে তাকিয়েই এবং কিছু বেড়ে না দিলে চেয়ে নেয়ার সাহসটুকুও আমার ভেতর সঞ্চার হতো না।

তারপর তো বোর্ডিংয়ের খাবার। যেখানে অধিকাংশসময় খাবার প্লেট সামনে রেখে কাঁদতে হয় কিশোরদের। আমাদের সময় নেত্রকোণার এক বাবুর্চি ছিল। বোর্ডিংয়ের বাবুর্চিরা যে কতটা দায়হীনতায় খাবার পাকায় তা তো সবার জানা। তবে একটা বিষয় স্বীকার করতেই হয়। এ কষ্টটা ছিলো বলেই জীবনের মানে বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। মানুষের অসহায়ত্বের বিষয়গুলো এখন খুব সহজে বুঝতে পারি। আর জীবন যে অনেক অধ্যয়নের একটা দীর্ঘ সূত্র তা আবিস্কার করতে পেরেছি খুব সহজে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: লেখাপড়ার হাতেখড়ি?

রোকন রাইয়ান: ক্লাস টু পর্যন্ত আমি স্কুলে পড়ি। যে স্কুলের সহকারী শিক্ষক আমার বাবা শহিদুর রহমান। সব পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হতো, রোল ১ অথবা ২। সেটা বাবার কারণে নাকি প্রকৃতই মেধাবী ছিলাম ঠিক মনে পড়ে না। তবে একটা স্মৃতি আমার বারবারই উঁকি দেয় মনে।

পরীক্ষার রেজাল্ট দিলেই বাবা চিঠি লেখাতেন নানুবাড়িতে। সেই চিঠি খামে ভরে আমাকে নিয়ে ধিয়ারপাড় ডাকঘরে যেতেন। বাবা আমাকে উঁচু করে তুলে ধরতেন আর আমি ডাকবক্সে চিঠি ফেলতাম।

ক্লাস থ্রিতে যখন উঠবো আমাদের এলাকার মসজিদে মাদরাসা খোলা হলো। লয়খা কেরাতুল কুরআন কওমি মাদরাসা। খুব সকালে বাবা আমাকে দিয়ে এলেন সেখানে নাকি একাই গিয়েছিলাম মনে পড়ে না। সেখান থেকে আমার মাদরাসাজীবন। মক্তব শেষ করার পর কিছুদিন হেফজ পড়তে শুরু করেছিলাম। তারপর বাবা প্রায় তিন মাইল দূরের এক মাদরাসায় ভর্তি করালেন। প্রতিদিন এতদূর হেঁটে যাওয়া আসার কষ্টগুলো স্মরণ হলে আমি এখনো ভড়কে যাই। অথচ এখন আধা কিলো রাস্তাও হেঁটে কোথাও যাওয়া হয় না।

এরপর দুই/তিন বছর পড়ার পর আমাকে ভর্তি করানো হলো উপজেলা শহরের (শ্রীবরদী) এক মাদরাসায়। সেখানে আমার ছাত্রাবাসজীবন শুরু। ২০০৮ সালে ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) শেষ করি। তারপর মিরপুর দারুর রাশাদে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করি ২ বছর। তারপর পরাশোনার ইতি।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: কর্মজীবনে অন্য কিছুওতো করতে পারতেন, লেখালেখিকে পেশা হিসেবে কেন?

রোকন রাইয়ান: আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম না। সেটা বুঝতে পেরেছিলাম আগেই। অথবা হতে পারে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু লেখালেখির প্রতি একটা ঝোঁক ছিল। দারুর রাশাদে পড়ার পর লেখালেখিটা মগজের সঙ্গে মিশে গেল। মনে হলো এটাই হয়তো আমার পারফেক্ট ফিউচার। পড়া শেষে একটা মাসিক পত্রিকায় চাকরিও হলো। রাহমানী পয়গাম। তারপর আর অন্যকিছু ভাবিনি।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আপনার প্রথম লেখা কোথায় প্রকাশ হয়েছিলো?

রোকন রাইয়ান: দারুর রাশাদে একটা সাময়িকী বের হতো আর রাশাদ নামে। সেখানেই সম্ভবত প্রথম লেখাটা ছাপা হয়েছিল। একটা গল্প ছিলো। তবে কাছাকাছি সময়েই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় আমি ফিচার লেখা শুরু করি। মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ছিলেন সে পাতার বিভাগীয় সম্পাদক। সেটাই মূলত টার্নিং পয়েন্ট ছিলো।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: প্রথম লেখা প্রকাশের আনন্দটা কেমন ছিল?

রোকন রাইয়ান: বিষয়টা যদিও স্পষ্ট মনে নেই। তবে এক কথায় বলতে আনন্দের। প্রথম দিককার লেখা প্রকাশের আনন্দটা তো তার মতো, যার ঘোর বিপদে ৫ লাখ টাকা হারিয়ে গেছে কিন্তু দুইদিন পর জানতে পেরেছে টাকাটা একজন পেয়েছে যথারীতি সে এক দুইদিনের মধ্যে ফেরতও দেবে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আপনার প্রকাশিত বই কয়টি? আপনার লেখা উপন্যাস ‘বইপোকাদের দলে’র ব্যাপারে কিছু বলুন?

রোকন রাইয়ান: তিনটা বই প্রকাশ পেয়েছে। যদিও আরেকটা বই আছে অনুবাদ। চারজনে মিলে করা হয়েছিলো। সেটা ছিল একটা গ্রুপ ওয়ার্কিং। বইটির নাম সভ্যতা সংস্কৃতিতে ইসলামের অবদান।

এরপর তিনটা বই প্রকাশ হয়। বইপোকাদের দল ও বন্ধু পরিবহন কিশোর উপন্যাস। সুখিয়া রোহিঙ্গাদের জীবননির্ভর সামাজিক উপন্যাস।

আমি ছোটবেলায় কিশোর উপন্যাস, অ্যাডভেঞ্জারের ভক্ত ছিলাম। তবে বিনোদনের জন্য লেখালেখি আমাকে টানতো না। সে কারণে আমার গল্পে কিশোর উপন্যাসের প্যাটার্নটা চেঞ্জ করতে চেয়েছি। বইপোকাদের দলে যেমনটা হয়েছে। অ্যাডভেঞ্জার আছে, শিক্ষা আছে প্লাস জীবনবস্তবতা উঠে এসেছে। একটা গ্রন্থাগার এবং এ নিয়ে তারুণ্যের গতিশীলতাকে বিষয়বস্তু করা কিশোর উপন্যাসে কম বললেই চলে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়ার অনুভূতি?

রোকন রাইয়ান: জিনিসটা ভালো না। মনের মধ্যে অনেক বড়ত্ব চলে আসে। নিজেকে একটু আলাদা মনে হয় অন্যের থেকে। কিন্তু কাজটা করতে মজা পাওয়া যায়। আসলে নেতিবাচক কাজের মধ্যে একটা আলাদা পুলক রয়েছে। অটোগ্রাফকে আমি নেতিবাচক কাজই মনে করি। অবশ্য অটোগ্রাফের জায়গা এখন ফটোগ্রাফ দখল করেছে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: লেখালেখির ক্ষেত্রে সব’চে বেশি অনুপ্রেরণা আপনাকে কে দেয়?

রোকন রাইয়ান: কেউ অনুপ্রেরণা দেয়নি। ভবিষ্যতে দেবে কিনা কেউ- বিষয়টা জানি না। অবশ্য এখন আর অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। একটা দায় নিজের বোধের ওপর চেপে গেছে। সে দায় থেকে লেখার তাগিদ চলে আসে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: লেখালেখি করতে গিয়ে পারিবারের কাছ থেকে কখনও বাধার সম্মোখিন হয়েছেন কি?

রোকন রাইয়ান: আমার পরিবার লেখালেখিকে হয়তো পছন্দই করে না। কারণ এ নিয়ে তাদের কারও মধ্যে কখনো উৎসাহ দেখিনি। তারা আমাকে নিয়ে ভিন্ন কিছুর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিংবা বলা যায় তেমন কোনো স্বপ্নই দেখেনি। কারণ তারা কখনো বিষয়গুলো নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনাই করেনি।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: সাংবাদিকতাকে কেমন উপভোগ করছেন?

রোকন রাইয়ান: সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় দরকার দায়িত্ব জ্ঞান, সমাজ, দেশ, জাতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ মনোভাব থেকে কাজ করা। কিন্তু আমরা এমন একটা সময়ে সাংবাদিকতা করছি যখন মিডিয়া কোনো কোম্পানির পোষ্য হয়ে হুকুম তামিল করছে। যে কারণে মুনাজাত উদ্দীনের মতো সাংবাদিক এখন দেখা যায় না। তাই মাঝে মাঝে আফসোস হয়। তবে সাংবাদিকতা উপভোগ করার মতো পেশা।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আমরা দেখতে পাচ্ছি, কওমি পড়ুয়া অনেক বন্ধুই সাংবাদিকতায় আসছে, কেউ কেউ তো জাতীয় দৈনিকের বড় বড় পদও পাচ্ছে,এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

রোকন রাইয়ান: এটাকে ব্যতিক্রমভাবে দেখার কিছু নেই। কওমিরাও সাংবাদিকতা করার অধিকার রাখে, [বরং উচিত] বড় পদে যাওয়ারই কথা। ব্যতিক্রম তো সেটাই তারা সাংবাদিকতায় এলে আমাদের ভিন্ন চোখে দেখতে হচ্ছে। সমাজের সবকিছুতে নেতৃত্ব দেয়া একজন শিক্ষার্থীর কাজ।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আপনি তো আমাদের সময়ে ছিলেন, হঠাৎ আওয়ার ইসলাম কেন?

রোকন রাইয়ান: আদর্শিকভাবে আমাদের স্থান এটি। আর জায়গাটি খালিও ছিলো। আমার কাজের স্থান যেখানে, যাদের নিয়ে তাদের জন্য কিছু করা, করতে পারার চেষ্টা তো শুরু থেকেই ছিল। সেটিই মূল কারণ। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মানুষজন সেটিকে আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: তো এত অল্প সময়ে আওয়ার ইসলামকে এতদূর কিভাবে নিয়ে এলেন?

রোকন রাইয়ান: বিষয়টা জটিলই ছিলো। বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউজে যেখানে লোকবল থাকে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক, সেখানে আমরা কাজ শুরু করি মাত্র ২ জনে। সেটি নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। এর পেছনে আসলে পরিশ্রমকেই আমি প্রধান করে দেখি। যত্নের সঙ্গে পরিশ্রম করতে পারলে অল্প সময়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব। আমি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সপ্তাহের সাত দিনই ১৪/১৫ ঘণ্টা সময় দেই। মাঝে মাঝে এমন হয় স্মার্ট ফোন দিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেও নিউজ আপ করি। যখন অফিসে কেউ থাকে না। আমাকেও বাইরে থাকতে হয়। এগুলো আসলে কাজের প্রতি মায়া। এই মায়া থাকলে মানুষ অল্প সময়ে বহুদূর যেতে পারে। এসব নিয়ে ইউটিউবে আমার কিছু ভিডিও আছে।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: এখনকার তরুণরা কি এভাবে মায়া নিয়ে কষ্ট করতে পারছে?

রোকন রাইয়ান: না, বিষয়টা ভাবলেই কষ্ট পাই। এখন বহু পত্রিকা হচ্ছে, কাজ তেমন একটা জানে না কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের বসিয়ে দেয়া হয়। এভাবে মূলত একটা প্রতিভা নষ্ট করা হয়। চারাগাছ অনেক প্রতিবন্ধকতা পাড় হয়ে ফল দেয়। তার আগে তাকে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে আসতে হয়। লাফ দিয়ে কেউ বড় হয়ে যায় না। এই যে বহু পত্রিকা হয়ে যাচ্ছে, বহু মানুষের সম্পাদক হওয়ার খাহেশ জাগছে এগুলো আমাদের প্রতিভাকে ধ্বংস করছে। যারা অন্যের অধীনে কাজ করে যোগ্য হতো তাদের আটকে রাখা হচ্ছে। আরেকটা ব্যাপার হলো, তরুণরাও এখন চাচ্ছে না কাজে গভীর মন দিতে। তারা অল্প বাতাসেই হেলছে দুলছে। এতে ভীতটা মজবুত হচ্ছে না। কিছু কপি পেষ্ট করে চালিয়ে দিতে পারলেই নিজেকে অনেকে বড় সাংবাদিকের কাতারে গুণছে বড় স্বপ্ন দেখার পথে এসব বড় বাধা।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই একজন সফল লেখক হওয়ার জন্য কি ইসলামী চিন্তাচেতনা এবং পোশাক-পরিচ্ছেদ বদলে ফেলা জরুরি?

রোকন রাইয়ান: পোশাক এবং চিন্তা চেতনা ব্যক্তির স্বতন্ত্র বিষয়। এগুলোর সঙ্গে সফল লেখক হওয়ার শর্ত কাকতালীয়। কিন্তু বর্তমান বৈষম্যের সমাজে এগুলো বড় করে দেখা দিয়েছে। প্রভাব প্রতিপত্তি যার বেশি তার শত্রু বেশি। ইসলাম পৃথিবীর অন্যতম প্রধানতম ধর্ম। ইসলামের শত্রুও বেশি।

ইসলামের এই শত্রুতা নানাভাবে প্রসার পেয়েছে। আজকাল ইউনিলিভারের পণ্যেও ইসলামবিদ্বেষ দেখতে হয়। বৈশাখের শাড়িতে রাসুল অবমাননা করা হয়। সাহিত্যে ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতিবিদ্বেষ সেখান থেকেই। এ বিদ্বেষ ব্যাপকতা পাওয়ায় আশপাশকে প্রভাবিত করছে। ইসলাম যখন এখানে জয়ী হবে পোশাকি ভাবনা-আশঙ্কাটা তখন আর থাকবে না।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: একুশে বইমেলায় ইদানিং কওমি তরুণদের অনেকেরই বই বের হচ্ছে এবং আমরা দেখেছি এই বইগুলো নিয়ে ভালোই হইচই হচ্ছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

রোকন রাইয়ান: কোনো জিনিস বাধার মুখ থেকে বেড়িয়ে সফল হতে পারলে সেটা নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। হইচই পড়ে। কওমি তরুণদের বইয়ের মনে হয় সেরকমটি হয়েছিল। তারা লেখালেখি নিয়ে অনেক বাধা বিপত্তির মধ্যে ছিলেন। নিজেদের মধ্যে থেকে যেমন বাধা ছিল তেমনি বাইরে থেকেও। সেলো মেশিনে পানি তুলতে হলে আগে অনেক কষ্ট করতে হয়। মুখটা ভালো করে আটকে দিতে হয়। তারপর যখন পানি বের হয় সবার মুখে হাসি ফুটে। একটা হইচই পড়ে যায়। ব্যাপারটা এমনই।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আচ্ছা, আপনারও তো বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে, তো পাঠকদের অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে কখনও কি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মোখিন হয়েছিলেন?

রোকন রাইয়ান: আদর্শ থেকে আমার বইপোকাদের দল যখন বেরুলো তখন তো দেখতে টেখতে আমি বেশ ছোট। এক মা তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন কিশোরদের বই কিনতে। তো আদর্শের স্টলে আসার পর আমার বইটা দেখিয়ে দিলো। আর বলল লেখক আছে অটোগ্রাফ নিয়ে যান। মহিলা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে বললেন এই লেখক?

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: জীবনে চলার পথে কোন কাজটি আপনাকে বেশি আনন্দ দেয়?

রোকন রাইয়ান: কারো কাছে আমার দাবি দাওয়া বা চাওয়া পাওয়া নেই। এ কারণে আমি খুব স্বাচ্ছন্দে চলতে পারি। এ ভাবনাহীন চলা অনেকের জন্যই কষ্টকর।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: ছোট বেলায় কোন বইটি পড়ে বেশি ভালো লেগেছিল?
আমি তপু, আটকুঠুরি নয় দরজা এবং হিমু সিরিজের প্রত্যেক বই।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: কোনো বিশিষ্ট লেখককে কি আপনি অনুসরণ করেন?

রোকন রাইয়ান: না। লেখক মাত্রই নিজস্ব রীতিতে লেখায় বিশ্বাসী। আলাদা ভঙ্গি থাকে। আমার বেলায়ও বিষয়টি এমন।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আমরা আজ আপনার সাক্ষাতকার নিচ্ছি, একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনিও তো অনেকের সাক্ষাতকার নিয়েছেন, তো কোন কাজটি বেশি ভয় লাগে, সাক্ষাৎকার নিতে নাকি দিতে?

রোকন রাইয়ান: সাক্ষাৎকার নেয়াটা তো রেফারির মতো। বাঁশি ফু দিয়ে বলটা ছেড়ে দেয়া। আর সাক্ষাৎকারদাতাকে খেলতে হয় মাঝমাঠে। পার্থক্যটা এমনই।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলার থাকে!

রোকন রাইয়ান: ফেসবুক, ইউটিউব ফুরিয়ে যাবে, নষ্ট করবে চোখ। বই অনন্ত যৌবনা। সুতরাং বেশি বেশি টেক্সট পড়ার চেষ্টা করুন।

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রোকন রাইয়ান: আপনাদের ধন্যবাদ সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য।



মন্তব্য চালু নেই