মেইন ম্যেনু

কাল থেকে আন্দোলনে নামছে বিএনপি

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে ফের আন্দোলনে নামছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন জোরদার করে দলের প্রধানকে কারামুক্ত করতে চায় সিনিয়র নেতারা।

বরিশাল ছাড়াও আরও দুটি মহাসমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সকল বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার কথা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, সরকারের চরম অমানবিকতা, নির্দয়-নিষ্ঠুরতার কোপানলে পড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে, তিনি গুরুতর অসুস্থ।

তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

জেলা-উপজেলায় প্রস্তুতি সভা হচ্ছে। এই শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশগুলোতে যোগ দিতে মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। মহাসমাবেশ ঘিরে সাধারণ জনগণের অভাবনীয় সাড়া দেখে সরকারের চিত্তচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস পরাজয়ের পর বেশিরভাগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করার পরও কারাবন্দি দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেননি তারা।

ফলে রাজপথে আন্দোলন করেই বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করার চিন্তা করছে হাইকমান্ড। সেই আন্দোলনের আগে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে।

অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র নেতারা। ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৭জুলাই) বরিশালে, ২০ জুলাই চট্টগ্রামে এবং ২৫ জুলাই খুলনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহীতে ২৮, ২৯, ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোন দিন সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বাকী বিভাগীয় শহরগুলোতেও আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ১৮ তারিখে বরিশালে, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম ও ২৫ তারিখ খুলনায় সমাবেশ এ্রখন পর্যন্ত কনফার্ম করেছি।

আমরা আশা করছি, আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বাকী বিভাগীয় শহরগুলো সমাবেশ করতে পারবো।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে চায় বিএনপি। এলক্ষ্যেই বিভাগীয় শহরে সমাবেশ শুরু হচ্ছে।

এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারও জোরালো করা হবে। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তৃণমূলের নেতাকর্মী যারা হতাশ ও নিষ্ক্রিয়, তাদেরকে সক্রিয় করা ও সাহস যোগানো।

সমাবেশ ছাড়াও ইতোমধ্যে জেলাগুলোতে নতুন কমিটি দিচ্ছে বিএনপি। এই দুই উদ্যোগে ফের নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। যেসব বিভাগে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে, সেসব শহরে চলছে সাজ সাজ রব।

নেতাকর্মীরা ব্যস্ত ওয়ার্ডে, ওয়ার্ডে, থানায়-থানায়, উপজেলায়-উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করতে এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমাবেশে টানতে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য আমার সংবাদকে বলেন, আমরা আশা করছি এ সমাবেশের মধ্য দিয়েই ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা আবার চাঙ্গা হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে চান তারা। পাশাপাশি আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবেন। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে শিগগিরই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে এসব এলাকার প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা করেছেন তারা।

এসব সভায় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে বলা হচ্ছে।



মন্তব্য চালু নেই