মেইন ম্যেনু

কুমিল্লায় প্রসূতির নবজাতককে তিন খণ্ড!

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফাতেমা বেগম নামে এক প্রসূতির নবজাতককে তিন খণ্ড করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর উপজেলা কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. তামান্না আফতাব সোলাইমানকে চেয়ারম্যান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীর স্বজনেরা জানান, উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের রিকশাচালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী প্রসূতি ফাতেমা বেগম (৩০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়মিত রোগী ছিলেন।

শনিবার দুপুর দেড়টায় ওই চিকিৎসকের কাছে আসলে তিনি আলট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান রোগীর অবস্থা ভালো নয়, ভালো কোনো হাসপাতালে তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

পরে রোগীর স্বজনেরা দুপুর আড়াইটায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সির দায়িত্বে থাকা ডা. রোমানা পারভীনের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করান।

রাতে দায়িত্বরত দু’জন সিনিয়র নার্স আছিয়া আক্তার, ঝরনা বেগম ও আয়া জেসমিন আক্তার ডলি প্রসবের চেষ্টা করে নবজাতকের হাত ও নাড়িভুড়ি ছিঁড়ে বের করে আনলেও মাথা বের করতে পারেননি।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন এবং ওই নার্স ও আয়া খণ্ডিত দেহ ফেলে দিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান।

পরে রোববার সকাল ৯টায় পথচারীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ ভবনের পাশে ওই নবজাতকের খণ্ডিত একটি হাত ও নাড়িভুড়ি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচার হলে শত শত লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করতে থাকেন।

ওই ঘটনায় প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও আয়াসহ কেউ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি। পরে দায়িত্বরত নার্স ও আয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা বেড়িয়ে আসে। তবে তারা জানান, বাচ্চাটি মৃত হওয়ায় প্রসব করাতে গিয়ে ছিঁড়ে যায়।

ঘটনা অনুসন্ধানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. তামান্না আফতাব সোলাইমানকে চেয়ারম্যান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে প্রসূতি ফাতেমার ভাই ইউছুফ মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, শনিবার দুপুরে বোনকে ভর্তি করানোর পর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় নার্সদের কাছে জানতে চাই, তারা বোনের প্রসব করাতে পারবেন কিনা। কিন্তু নার্সদের আশ্বাসে অপেক্ষা করি। রাতে জানতে পারি বাচ্চাটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

বোনের অবস্থা খারাপ দেখে রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং সকালে অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতকের মাথাটি বের করা হয়।

রাত্রীকালীন ডিউটিরত মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু জানান, প্রসূতির নবজাতকের মাথা থেকে দেহ আলাদা করার বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েই কর্তব্যরত নার্সরা কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. নীলা পারভীন জানান, ওই প্রসূতি তার নিয়মিত রোগী ছিল। আলট্রাসনোতে শিশুটি মৃত মনে হওয়ায় রোগীর অভিভাবককে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। তবে ব্যবস্থাপত্রে রেফারের বিষয়টি উল্লেখ করিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, নার্সদের আয়ত্বের বাহিরে থাকার পরও ডেলিভারির চেষ্টা করা, কারোর সহযোগিতা চাওয়া বা না জানিয়ে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা, যা কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্বে পড়ে না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য চালু নেই