মেইন ম্যেনু

কেমন শাস্তি শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলবে না

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নামী স্কুল ‘ভিকারুন্নিসা নুন’ স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী আত্মহত্যা করার পর স্কুলের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা আজ স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।

অরিত্রী অধিকারী নামে এই ছাত্রী তার মোবাইল ফোন পরীক্ষার হলে নিয়ে নকল করার চেষ্টা করছিল, এমন অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

কিন্তু তার পরিবার এবং বন্ধুদের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে যে হেনস্থা এবং অপমানের শিকার হতে হয়, তার কারণেই এই ছাত্রী আত্মহত্যা করেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্কুলের গেটের সামনে জড়ো হয় নবম ও দশম শ্রেণীর কিছু ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা।

তাদের দাবি, নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি।

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান যে, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনদিনের মধ্যে কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

পরবর্তীতে যেন এধরণের ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন মি. নাহিদ।

কিন্তু এরকম ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন অভিভাবকরা?

আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন

ভিকারুন্নিসা স্কুলের সামনে বিক্ষোভরত ছাত্রী-অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করতে পারবেন না কোনো শিক্ষক; যদি করেন, তাহলে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন।”

এই ধরণের অপরাধের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান মি. নাহিদ।

কিন্তু অধিকাংশ অভিভাবকই মনে করেন, দেশে এ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তা সুস্পষ্ট নয় এবং সেসব আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নেই।

নাহিদা আক্তার নামের একজন অভিভাবক বলেন, “পুরুষ শিক্ষক দ্বারা নারী শিক্ষার্থীর হেনস্থা হওয়ার কয়েকটি অভিযোগ শোনা গেছে সম্প্রতি। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন আমাদের দেশে নেই।”

শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকরা অসদাচরণ করলে সেক্ষেত্রে শাস্তির বিধান থাকলেও দেশে এই আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই বলে মনে করেন ঐ অভিভাবক।

অভিভাবকদের গণ আবেদন

কিশোর শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকরা অসদাচরণ করলে তার প্রতিবাদ হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সব অভিভাবকদের স্বাক্ষর সম্বলিত গণ আবেদন দাখিল করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন অভিভাবক।

তবে সেক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরণের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

একজন অভিভাবক বলেন, “কোনো শিক্ষকের অসদাচরণের বিরুদ্ধে গণ আবেদন করলে অধিকাংশ অভিভাবক হয়তো সেই আবেদন পত্রে স্বাক্ষরই করবেন না। কারণ তখন ঐ অভিভাবকের সন্তানের ওপর চড়াও হতে পারে অভিযুক্ত শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।”

শিক্ষকদের শিশু মনস্তত্ত্ব বিষয়ে শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা

স্কুলে শিশু-কিশোরদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সব শিক্ষককে শিশু মনস্তত্ত্ব বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন অধিকাংশ অভিভাবক।

এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন অভিভাবকরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘কাউন্সেলিং’ সুবিধা রাখা

অনেক উন্নত দেশেই স্কুল-কলেজের কিশোর শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার জন্য কাউন্সেলিং বা বিশেষজ্ঞ মনস্তত্ত্ববিদের সাথে আলোচনার সুযোগ থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় কোনো স্কুলেই এ ধরণের ব্যবস্থা নেই।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কিশোর-কিশোরীদের একটা বড় অংশ সাধারণত অতিরিক্ত অনুভূতিশীল এবং সংবেদনশীল হয়, এবং অনেক সময় সামান্য ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে থাকে; তাই এধরণের শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সব স্কুলেই এই ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

আর এই মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার ব্যবস্থা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নয়, অসদাচরণ করা শিক্ষকদের জন্যও আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

-বিবিসি বাংলা



মন্তব্য চালু নেই