মেইন ম্যেনু

ঘুরে এলাম কাশফুলদের বাড়ি

পড়ন্ত বিকেলে মনকে প্রফুল্ল করতে ঘুরে আসতে পারেন কোনো এক নিষ্পাপ প্রকৃতির মাঝ থেকে। প্রকৃতি আপনাকে সব সময়ই দেবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এমনি ভালোবাসার আশায় এক স্নিগ্ধ বিকেল কাটাতে এবং নগরজীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে একটু শান্তির খোঁজে ক্ষণিকের জন্য গিয়েছিলাম ঢাকার কাশফুলদের বাড়ি!

সেদিন কাশকন্যাদের ভালোবাসায় অন্যরকম মুগ্ধ হয়েছিলাম আমরা সবাই। ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম নিজেকেও। হারিয়েছিলাম প্রকৃতির শুভ্রতায় মোড়ানো এক রোমাঞ্চ ভূবনে। ইট, পাথরের যান্ত্রিকময় এই শহরে প্রকৃতির এমন নিষ্পাপ সৌহার্দ একনিমিষে মুছে দেবে শত গ্লানি। তাই জীবন থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতিকে দিন, প্রকৃতি আপনাকে রংধনুর বিছনায় জড়িয়ে রাখবে।

সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রীর আফতাবনগরের কাশবন ঘুরে এমনই অনুভূতি জেগেছে আমার মনে। পড়ন্ত বিকেলে কাছের প্রিয় মানুষগুলোর সাথে কাশবনের বাঁকে হাঁটার মুহূর্তটা ছিল শরতের শ্রেষ্ঠ উপহার।

আফতাবনগর ছাড়াও খোলা বাতাস খাওয়ার আরেক জায়গা উত্তরা দিয়াবাড়ি। প্রকৃতি প্রেমিদের নজরকাড়া ভীড় এখানে লেগেই থাকে। এদিকে বসুন্ধরা ৩০০ ফিট রাস্তার চারপাশ এখনও রয়েছে শরতের দখলে। একটু সময় নিয়ে ঢাকার এপাশ ওপাশ তাকালেই মিলবে নয়নাভিরাম অনেক দৃশ্য।

আফতাবনগরে প্রকৃতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মুহূর্তে হাজির হয় বৃষ্টির ফোঁটা। শরতভেজা ব্যাকুলতায় সেদিন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা ছিল আশাতীত ভালোলাগার। শরতে কাশফুলের কোমল পরশ আর সাদা সাদা নরম মেঘের ফাঁক গলে মাঝে মাঝে উঁকি দেয় সোনাঝরা রোদ। পশ্চিমে হেলে পড়া সেই সূর্যের কিরণ যখন কাশফুলের ওপর পড়ে, তখন এ দুইয়ের মিথস্ক্রিয়ায় অদ্ভুত এক আভা প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়ে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। যত দূর চোখ যায়, দৃষ্টিজুড়ে শুধু কাশবন আর কাশবন। বিস্তীর্ণ এলাকা যেন শুভ্রতার চাদরে মোড়া এক অপরূপ সৌন্দর্যের রাজ্য।

সাদা কাশকন্যার মাঝে কালো কেশ যেন এই মাটি ও মানুষের প্রকৃতিকে দিয়েছে কবি কাব্যের বেশ। তাই কাব্যের ভাষায় কবি মনের বন্ধনা আজ এমনই….

কাশ ফুলদের বাড়ি সাদা শুভ্রতার হাতছানি,
তাই কংক্রিটের শহরে সে এক টুকরো রানী।
তার মাঝে কালো কেশের কোলাহল নিত্যদিন,
পড়ন্তক্ষণে শুভ্রতার পরশে জীবনটা করে রঙিন।
প্রকৃতির কাছে হারিয়ে একটি বেলা শেষ,
স্মৃতির মিনারে গাঁথা রবে যার রেশ…।

কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শ্বেত শুভ্র কাশফুলের নরম পালকে চড়ে মেঘের দেশে হারিয়ে যেতে কার না মন চায়! নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুল যখন বাতাসের দোলায় দুলতে থাকে তখন মনটাও যেন শরৎ প্রেমে আন্দোলিত হয়। তাই প্রকৃতির এমন প্রেম থেকে মনকে বঞ্চিত না করে আসুন আমরা প্রকৃতির সাথে মিশি। প্রকৃতি আমাদের আগলে রাখবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।



মন্তব্য চালু নেই