মেইন ম্যেনু

চিকিৎসায় অভূতপূর্ব এক সাফল্য দেখালো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল

চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব এক সাফল্য অর্জন করেছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। প্রথমবারের মতো সাফল্যের সঙ্গে এক রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করেছে তারা।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় সিরাতুল ইসলাম শুভ নামের ২০ বছরের এক যুবক স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন।

বিভাগের প্রধান জুলফিকার রহমান খানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এই অস্ত্রোপচার করেছেন। সহযোগিতা করেছেন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম এইচ মোস্তফা কামাল ও রেসিডেন্ট দীপক ভার্মা। এছাড়া জটিল এ অস্ত্রোপচারে সার্বিক সহায়তা করেন ভারতের প্রতিথযশা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন পি বালাচন্দ্র মেনন।

শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে গত ২৪ জুনের অস্ত্রোপচার এবং পরের ১২ দিনের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। যেখানে রোগী এবং রোগীর মাকে সম্পূর্ণ সুস্থ দেখা যায়। তবে নিবিঢ় পরিচর্যার কারণে এখনও রোগীর কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

হাসপাতালটির এই সাফল্য বছরে অন্তত ৫০০ রোগীকে বিপুল পরিমাণ খরচের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোটি টাকায় এই চিকিৎসা করতে এই পরিমাণ লোক যায় ভারতে। তবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করেই এই চিকিৎসা করেছে।

এর আগে দেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চারটি অস্ত্রোপচার হলেও সেগুলোর সবগুলো পুরোপুরি সফল হয়নি।

জানা গেছে, শুভ ২০১৭ সাল থেকে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। ভারতের চিকিৎসার জন্য গেলে তাকে সেখানকার বিশেষজ্ঞরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের কথা বলেন। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এই চিকিৎসার সাধ্য নেই বলে সন্তানকে দেশে নিয়ে আসেন বাবা। অবস্থা দিন দিন অবনতি হতে থাকলে ভর্তি করেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। এখানে চিকিৎসকদের টানা ছয় মাসের পরিচর্যা তাকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের উপযোগী করে তোলে।

শুভর মা রোকসানা বেগম নিজের লিভারে একটি অংশ ছেলেকে দেন। গত ২৪ জুন ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয় গ্রহীতার লিভার ট্রন্সপ্লান্ট এর মতো জটিল অস্ত্রোপচার। টানা ১৮ ঘণ্টা প্রচেষ্টায় সফল হন ৫০ সদস্যের এই চিকিৎসক দল। বর্তমানে রোগী এবং দাতা দুজনেই সুস্থ আছেন।

হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান খান বলেন, ‘শুভর মায়ের লিভার থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রোগীর লিভারটিও সেখান থেকে পুরোপুরি অপসারণ করা হয়েছে।

মা ছেলের শারীরিক আবস্থা জানতে চাইলে এই বিশেজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, রোগীর মা বাড়ি যাওয়ার মতো সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে শুভকে আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখব। এমনিতে তার সব কিছু স্বাভাবিক আছে। নিজে নিজে খেতেও পারছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচটিও মোবাইলে দেখেছেন। আশা করি, শিগগিরই সে সুস্থ হয়ে যাবে।

এই অপারশেনটি করতে খরচ হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। তবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল পুরো ব্যয় বহন করায় একটি টাকাও দিতে হয়নি ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। ভারতে এই অপারেশনে খরচ হয় এক কোটি, সিঙ্গাপুরে প্রায় দুই কোটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার, প্রো-ভিসি শহীদুল্লাহ সিকদার ও সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, ভারতের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন পি বালাচন্দ্র মেনন প্রমুখ।



মন্তব্য চালু নেই