মেইন ম্যেনু

ছেলের পরীক্ষা তাই কার্ড ছাপিয়ে দাওয়াত খাওয়ালো বাবা!

ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষা উপলক্ষে দাওয়াত দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ভুরিভোজনের আয়োজন করেছে বাবা। ছেলের পরীক্ষা শুরুর আগে রীতিমত কার্ড ছাপিয়ে এ ধরণের আয়োজন করেন মুর্শিদাবাদের দুই বাবা।

কার্ড ছাপিয়ে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ঘরের উঠোনে টাঙ্গানো হয়েছে বিশাল সামিয়ানা। সেইসাথে রান্নাপাতির বড় বড় ডেকসি-পাতিলে এলাহি কারবার। অতিথিরাও পরীক্ষার্থীদের জন্য নিয়ে এসেছেন খাতা কলম।

রজব আলী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তিনি পড়াশোনায় প্রাথমিক স্কুল পেরোতে পারেননি। স্ত্রী রূপসেনা বিবির দৌড়ও ক্লাস সেভেন পর্যন্ত। তাদের বড় ছেলে শামীম শেখ পুরো বাড়ির মধ্যে প্রথম মাধ্যমিকে বসছে । তাই তিনি দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়েছেন ছেলের পরীক্ষার আগে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানোর জন্য। মুরগির মাংস, পোলাওসহ হরেক রকম আইটেম রান্নার আয়োজনও করেছেন তিনি।

শনিবার ভগবানগোলা এলাকায় বিশাল ভূরিভোজনের ব্যস্ততার মধ্যে রজব আলী আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানান, ‘‘বাড়ির বড় ছেলে এ বার মাধ্যমিক দিচ্ছে। সেই উপলক্ষেই এই আয়োজন। সবাই দোয়া করুন, ছেলেটা যেন সফল হয়।’’

একইভাবে রবিবার পদ্মাপাড়ের লালগোলায় সারজেমান শেখের বাড়িতেও বসে এ ধরণের ভূরিভোজনের। তিনিও আমন্ত্রণ করেছেন শ’দেড়েক অতিথি। তাদেরকে খাইয়েছেন মোরগ পোলাও।

মোটরবাইক শো-রুমের মালিক সারজেমান বলেন, “বড় ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষা। অতিথিদের দোয়ার নেয়ার উদ্দেশে সামান্য এ আয়োজন করেছি। সেইসাথে ছেলেটার পরীক্ষাভীতিও কাটলো।’’

ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার আগে সীমান্ত ঘেঁষা লালগোলা, ভগবানগোলা, ফরাক্কা কিংবা লালবাগের মতো জনপদে এমন রেওয়াজ অবশ্য নতুন নয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় লালগোলা লস্করপুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, ‘‘মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে সকলেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। এমন আয়োজনে ভয় ঢাকা পড়ে যায় উৎসবের আবহে।’’

সীমান্ত ঘেঁষা জনপদ হওয়ার সুবাদে চোরাচালানি, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত লালগোলা কিংবা ভগবানগোলার মানুষ। তবে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, সেই দুর্নাম ক্রমে মুছে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। সেইসাথে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ছাত্রীর সংখ্যাও। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা



মন্তব্য চালু নেই