মেইন ম্যেনু

ছয়শত মানুষ মাটি চাপা দিয়ে গাছ লাগিয়েছেন রাম রহিম

ছয়শত মানুষ হত্যার পরে তাদের গোপনেই মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। প্রমাণ নষ্ট করতে এক বিজ্ঞানির পরামর্শে সেই জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। এমন লোমহর্ষক কথা শুরুতে উড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশ। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তা তদন্ত করতে গিয়ে মিললো প্রমাণ। এতেই চোখ কপালে উঠেছে ভারতবাসির।

ভারতের কথিত ধর্মগুরু রাম রহিম সিংয়ের আস্তানায় ৬০০ কঙ্কাল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। গণমাধ্যমকে তারা জানান, নিজের ২ অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ভারতের এই গুরুর ডেরায় প্রায় ৬০০ কঙ্কাল মাটিচাপা দিয়ে রাখার অভিযোগ পেয়েছিলেন।

তবে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কলাগুলো কি শুধু নারীদের না পুরুষও আছে তা জানা যাবে ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় পত্রিকায় ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হরিয়ানার সিরসায় রাম রহিমের ডেরার ব্যবস্থাপক বিপাসনা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পি আর নাইনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। ওই জিজ্ঞাসাবাদেই পি আর নাইন এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে ডেরায় থাকা কমপক্ষে ২ হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন এক সাধ্বী।

প্রসঙ্গত ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় গত ২৫ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর নেওয়া হয় রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুলা এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হন।

পরে ২৮ আগস্ট রাম রহিমকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এদিকে রাম রহিমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি ও সাবেক ডেরা ব্যবস্থাপক রণজিৎ সিং হত্যা মামলার বিচার চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদে রাম রহিমের ঘনিষ্ঠ এই সহচর বলেন, ডেরায় হত্যার পর প্রায় ৬০০ কঙ্কাল মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। জার্মানির একজন বিজ্ঞানীর পরামর্শে মাটিচাপা দেয়া ওই কঙ্কালগুলোর ওপর গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ তদন্ত দলকে দেয়া জবানবন্দির স্বপক্ষে পি আর নাইন ও বিপাসনা যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন।

রাম রহিমের অনুসারী এক নারী অভিযোগ করেছেন, ডেরায় সেবার জন্য পাঠিানো সন্তানের গত ১২ বছর ধরে কোনো খোঁজ নেই। হরিয়ানার পানিপথের ওই নারীর অভিযোগ, তিনি রাম রহিমের একজন ভক্ত। সেবার জন্য সন্তানকে ডেরায় পাঠাতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ডেরা কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞাপন দেখেই তিনি ২ মাস বয়সী সন্তানকে ডেরায় রেখে এসেছিলেন। এরপর থেকে ওই সন্তানের আর কোনো খোঁজ নেই।

রাম রহিম কারাগারে যাওয়ার পর থেকে হরিয়ানায় সিরসার ডেরায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেখানে অভিযানের শুরুর দিকে বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধ জব্দ করা হয়। ডেরার ভেতরে সাধ্বী হোস্টেলে রাম রহিমের সরাসরি যাতায়াত ছিল। ওই যাতায়াতের জন্যই দুটি গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। ডেরার গুফা থেকে সাধ্বী হোস্টেল পর্যন্ত একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়।

এছাড়া তার ডেরায় পানির নিচে গোপন সেক্স কেভ বা যৌন গুহার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডেরার প্রাসাদ চত্বরে যে সুইমিং পুল রয়েছে, তার নিচেই ওই যৌন গুহা গড়ে তুলেছিলেন ডেরাপ্রধান রাম রহিম। গোপন গুহায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করতেন তিনি।

রাম রহিমের ডেরায় শত শত আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও ভিডিও চিত্র সাংবাদিকের বিশাল একটি দল অভিযান চালিয়ে এই গুহার সন্ধান পায়।






মন্তব্য চালু নেই