মেইন ম্যেনু

জাতীয় কবির ১১৯তম জয়ন্তী আজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জয়ন্তী শুক্রবার (২৫ মে)। বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির মাজার ভরে উঠবে ফুলে। কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান কাজী নজরুল ইসলাম। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

মাত্র নয় বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে দশ বছর বয়সেই জীবিকা অর্জনের সন্ধানে নামেন তিনি। মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মক্তবে শিক্ষকতা ও মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচার ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। যার প্রভাব পরবর্তীতে তার সাহিত্যে লক্ষ্য করা গেছে। বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে।

কবিতার পাশাপাশি বাংলা গানেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা গজলের প্রবর্তক নজরুল ইসলাম। তার লেখায় উঠে এসেছে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে কখনো আপস করেননি দুখু মিয়া। মাথা নত করেননি উচ্চাকাক্সক্ষার কাছে। আজীবন সংগ্রাম করেছেন ‘চির উন্নত মম শির’ বলে।

১৯১৭ সালের শেষদিকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কাজী নজরুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি করাচি সেনানিবাস থেকেই। করাচিতে থাকলেও কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফার্সি কবি হাফিজের বেশ কিছু বই ছিল তার কাছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে কলকাতায় ফিরে ৩২ কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন নজরুল ইসলাম। সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফফর আহমদের সঙ্গে থেকেই সাহিত্য চর্চা ও সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয় এবং সেগুলো বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ফলে তৎকালীন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে নজরুল ইসলামের।

১৯২০ সালে ‘নবযুগ’ দৈনিকের মাধ্যমে নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। সান্ধ্য এই দৈনিক পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। ১৯৪২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৫২ সালে কবি ও কবিপত্নীকে ভারতের রাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। নজরুলকে স্ত্রীসহ চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয় ১৯৫৩ সালের ১০ মে।

লন্ডনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ণয় করেন, নজরুল দুরারোগ্য ‘ইনভল্যুশনাল সাইকোসিস’ রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। ওই বছরই জার্মানির ভিয়েনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘পিক্স ডিজিজ’ নামে নিউরনঘটিত সমস্যায় ভুগছেন নজরুল ইসলাম। এ অবস্থা থেকে তাকে আরোগ্য করে তোলা অসম্ভব। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪ বছর নির্বাক জীবনযাপন করেন কবি।

১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগের ফলে পরিবারসহ বাংলাদেশে আনা হয় তাকে। ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি দেয় তাকে। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদক প্রদান করে নজরুলকে। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণে’ ভূষিত করা হয় তাকে।

১৯৭৬ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। তার লেখা গান অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয় তাকে।



মন্তব্য চালু নেই