মেইন ম্যেনু

জাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে ঢাবি ছাত্রলীগের মারধর

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটুকে মারধর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুলার রোডে।

জানা যায় কোন ধরনের আইডি কার্ড ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অপরাধে টিটুকে মারধর করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

যোগাযোগ করা হলে মহিতোষ রায় টিটু বলেন, “আমি এদের প্রত্যককে চিনি এরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে ২/৩ জনকে চিনলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা জানান। এই নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোন অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই।”
তবে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। তার স্টাটাস টি নিম্নরূপঃ

এই স্ট্যাটাস দেয়া, না দেয়া নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম। অবশ্য যা সত্য ও শ্বাশত তা লুকানোতে কোন কৃতিত্ব নাই।

ঘটনার তারিখ : ১৪-০৭-১৮

স্থান : বৃটিশ কাউন্সিল,ফুলার রোড। সময় : ৮.২০ পি.এম।

বান্ধবীর সাথে বসেছি পাঁচ মিনিটও হয় নাই,এর মধ্যে হঠাৎ কয়েকজন উদভ্রান্ত ও উত্তেজিত যুবক কাছে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল।ধরনটা এরকম-

আপনারা ক্যাম্পাসের?

না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের।

আইডি কার্ড আছে?

না।সাথে নিয়ে আসি নাই।

আইডি কার্ড নাই,আবার প্রেম (আপত্তিরকর শব্দ)!

এক সাথে বসে থাকলেই কি প্রেম করা হয়?

এখানে বসে আছেন কেন?

কেন?এখানে বসা কি নিষেধ?

তাদের উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায়,আমার বন্ধু আসিফকে(উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক,ছাত্রলীগ)ফোন দিতে যাচ্ছিলাম।
কারে ফোন দেন?

উত্তর দেয়ার সময় পেলাম না। ইতিমধ্যে কয়েকটি হাত আমার গালে কয়েকবার বসে গেছে প্রচন্ড শব্দে।
তবুও মনোবল না হারিয়ে দৃঢ গলায় বললাম,আমি ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ছিলাম।

এবার মুখের ডান অংশটা কিছুক্ষণের জন্য অনুভূতিহীন হয়ে ছিল মনে হয় পরপর কয়েকটা থাপ্পরে।এরপর ওদের মধ্যে দুইজন যা বললো,তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না একদম।

(আপত্তিরকর শব্দ) আমরা ছাত্রলীগের নেতা বানাই। তোর (আপত্তিরকর শব্দ) মধ্যে ছাত্রলীগ ভইরা দিমু!!

আরেকজন মুখে বিশ্রী একটা অভিব্যক্তি এনে বললো

তোর জাহাঙ্গীরনগর (আপত্তিরকর শব্দ) পোলা!!

পরবর্তী ঘটনা আর না বলি। তাদের এই কয়েকটা বাক্যে আটকে আছি।জীবনটাই আটকে গেছে বোধহয়।

তাদের ব্যক্তিগত কারও পরিচয় দিব না।তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্র ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সূর্যসন্তান এবং তারা ছাত্রলীগ কর্মী।সংখ্যায় তারা ১০/১২ জন।

# আমার কৈশোর ও যৌবনের ভালবাসার ছাত্রলীগ। আহা ছাত্রলীগ! তোমরা সঠিক শিক্ষাটাই দিছো।ভাই,তোমাদের লাল সালাম।

# শরীরের ঘা একসময় শুকায়ে যায়,কিন্তু মনের ঘা শুকায় না।

*বি:দ্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় থাকলে অবশ্যই আইডি কার্ড সাথে রাখবেন,তারা আইডি কার্ডে মানুষ চিনে,ব্যবহারে নয়।

স্টাটাসটি প্রায় শতাধিক শেয়ার হয়। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জাবি ছাত্রলীগের কেউ প্রকাশ্যে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, “সারাজীবন ছাত্রলীগ করা একজনকে যদি ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হতে হয় তবে তার মত বেদনার আর কিছু হতে পারে না। আশা করি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দ এই ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্ত কে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ছিল এই ছাত্রলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সাংবাদিকের উপর হামলা ও প্রভোস্ট লাঞ্ছনার অভিযোগ আছে।

২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিএনসিসি সদস্য আফজাল জাহান ইমরান ও সাংবাদিক নাহিদুর রহমানকে মারধর করেন মহিতোষ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। কিন্তু পরে তাঁর শাস্তি মওকুফ করা হয়।

২০১৬ সালের ৮ জুন বুধবার বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শফিক মিতুলকে মারধর করে মহিতোষ রায় টিটু। ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক ছিনতাইকারীকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাত থেকে চিনিয়ে নিতে বাধা দিলে শফিক মিতু্লরে উপর হামলা করে মহিতোষ রায় টিটুসহ একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

২০১৫ সালের মে মাসে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিল জাবিরই এক ছাত্রী। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মীর মোশারফ হোসেন হলে ১১০/বি নং কক্ষে ঢাবির এক ছাত্রীসহ তাকে আটক করা হয়।



মন্তব্য চালু নেই