মেইন ম্যেনু

জিহাদী বধূ শামীমার নাগরিকত্ব নিয়ে আইন কী বলছে?

আইএস-এ যোগ দিয়ে নিজের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারানো শামীমা বেগমের ব্রিটেনে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন।

শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব কেড়ে নেবার এই বিষয়টিকে ‘চরম পন্থা’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

মি. করবিনের মতনই একই মত দিয়েছেন ব্রিটেনের শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ডায়ান অ্যাবোট।

শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেবার বিষয়টিকে মিজ অ্যাবোট তীব্র সমালোচনার চোখে দেখেছেন।

কাউকে রাষ্ট্রবিহীন করা কেন বিধি বিরুদ্ধ?

ইন্টারন্যাশানাল আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যদি কোনো রাষ্ট্রই আইনসিদ্ধ নাগরিক বলে বিবেচনা না করে তবে সেই ব্যক্তি রাষ্ট্রবিহীন নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন।

কিন্তু ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশান অফ হিউম্যান রাইটস – যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারকে উর্ধে তুলে ধরেছে – বলছে, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই কোন রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবার অধিকার রয়েছে।

ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশান অফ হিউমেন রাইটস স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, “কোনো ব্যক্তিকেই তার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না”।

শামীমা কি বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পাবে?

শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হলেও সে ‘স্টেটলেস’ বা রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত হবে না বলেই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে যুক্তি দিচ্ছে ব্রিটেনের হোম অফিস।

এক্ষেত্রে ব্রিটেনের দিক থেকে বারবার বাংলাদেশে শামীমার নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি অধিকারের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ‘ব্লাড লাইন’ বা উত্তরাধিকার সূত্রে যে কোনো ব্যক্তি অন্য দেশে জন্মালেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবার অধিকার রাখে।

বাংলাদেশের আইন বলছে, বিদেশে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী বাবা-মায়ের সন্তান যদি বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পাবার কোনো উদ্যোগ না নেয় তাহলে ২১ বছর বয়সে সেই ব্যক্তির বাংলাদেশী নাগরিকত্ব আপনা-আপনি খারিজ হয়ে যাবে।

ব্রিটিশ হোম অফিস বলছে, শামীমার বয়স বর্তমানে ১৯। অর্থাৎ তার বয়স এখনো ২১ হয়নি। তাই, আইনত তার এখনো দ্বৈত্ব নাগরিকত্বের রয়েছে।

অর্থাৎ শামীমার মা একজন বাংলাদেশী নাগরিক বলে মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে শামীমাও নাগরিকত্ব দাবি করার অধিকার রাখে।

তবে, বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত হলেও শামীমা জীবনে কখনো বাংলাদেশে যান নি।

নাগরিকত্ব নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ?

ব্রিটেন নানাভাবে শামীমাকে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পাবার অধিকারী বলে উল্লেখ করলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিজ বেগম বাংলাদেশী নাগরিক নয়। তাই, তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

শামীমার সন্তানের নাগরিকত্ব কী হবে?

শামীমা বেগমের সন্তান ব্রিটেনের নাগরিকত্ব ও প্রবেশাধিকার পাবে কিনা তা নিয়ে ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি সাজিদ জাভেদ স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

তিনি শুধু বলেছেন, “অভিভাবকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হলেও তার সন্তানের নাগরিকত্বের উপরে এর কোনো প্রভাব পড়বে না”।

তবে, ব্রিটেনের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক আইনের একজন বিশেষজ্ঞ লর্ড কার্লাইল বলছেন, শামীমার সন্তানও বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বা নেদারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেতে পারে। কারণ শামীমার স্বামী একজন ধর্মান্তরিত ডাচ নাগরিক।



মন্তব্য চালু নেই