মেইন ম্যেনু

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি ট্রাম্পের

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় ট্রাম্প আমেরিকান দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে আরব দেশগুলো। এর পরিণতি বিপজ্জনক হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে জর্ডান। তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে প্রবেশের ১০ মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করলেন তিনি।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও এ ঘোষণা না দেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু তাদের আহ্বান উপেক্ষা করে ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে বলেন, ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময়ের ছাড় দিয়েও আমরা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। আর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধান চাইলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় থাকবে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতা নিয়াহু ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্বান্ত। তিনি এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি সাহসী ও ন্যায়-সংগত সিদ্ধান্ত।’ নেতানিয়াহু অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টান—এই তিন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর পুণ্যভূমি হিসেবে জেরুজালেমের যে অবস্থান, ট্রাম্পের এই ঘোষণায় এর কোনো পরিবর্তন হবে না।

ট্রাম্পের এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস । তারা বলেছে এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ‘নরকের দরজা’ খুলে গেল। তারা আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে নিজ নিজ দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সায় নেই তাদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যেরও। মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ফোন করে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, যাদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোও ছিলেন। পোপ ফ্রান্সিসও জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুসারে জেরুজালেমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ইজরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই।

এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। ইসরায়েল সব সময়ই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। অপরদিকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলকে দেখতে চায় ফিলিস্তিনিরা।






মন্তব্য চালু নেই