মেইন ম্যেনু

ঝুঁকি এড়াতে ট্রাকের যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে পুলিশ

আসন্ন ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝূকি নিয়েই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া কম ভাড়া হওয়ায় প্রতিটি ট্রাকে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার এবং ময়নামতি এলাকায় বেশ কয়েকটি ট্রাক থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় হাইওয়ে পুলিশ। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে শুরু করে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এসব যাত্রী সংগ্রহ করে উত্তর বঙ্গের নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী পৌছে দেয় এসব ট্রাক। বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী একত্রিত হয়ে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায় এসব ট্রাক ভাড়া করা হয়।

উত্তর বঙ্গ থেকে আসা শ্রমজীবি মানুষ কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী এলাকা বাড়ি ফিরে যায় ঈদের দু’ একদিন আগে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তারা বাড়ি কম খরচে বাড়ি ফিরতে গিয়ে বেছে নেয় খোলা ট্রাক অথবা বাসের ছাদ। কুমিল্লা থেকে বাসে উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পৌছাতে খরচ হয় সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা যা ট্রাকে করে গেলে গড়ে খরচ হয় ৩শ থেকে ৪ শ টাকা।

নীলফামারীর উদ্দেশে ট্রাকে করে রওনা হওয়া এক দিনমজুর আলিফ জানায়, মূলতঃ খরচ কমিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যেই ট্রাকে করে যাত্রা। এজন্য কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার এসব দিন মজুররা একত্রিত হয়ে ট্রাক ভাড়া করে এক সাথে টাকা উঠিয়ে বাড়ি রওনা হয়। এতে কিছুটা ঝুকি থাকলেও তারা ট্রাকে করেই রওনা হয়েছে।

ময়নামতি এলাকায় ট্রাক থেকে নামিয়ে দেয়া আরেক যাত্রী শফিউর জানায়, পুলিশের ভয়ে রাতে বেলা ট্রাকে করে রওনা দেয়া। দিনের বেলায় মহাসড়কে ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেয় না পুলিশ। ঈদের আগে যা আয় করা হয় তার থেকে কমে ৩ হাজার টাকা বাড়ি আসা যাওয়ায় খরচ হয়। তাই বাধ্য হয়েই ট্রাক ভাড়া করা।

শনিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি, পদুয়ার বাজার, চান্দিনা, দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান চালায় কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এসব ট্রাক থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লার ২১ টি টিম দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাঠে রয়েছে। এভাবে ঝুকি নিয়ে ট্রাকে, মালবাহী ট্রাকে বা বাসের ছাদে করে যাত্রী পরিবহন করতে দেয়া হবে। সাধারণত কম আয়ের মানুষ যারা উত্তর বঙ্গ থেকে এই এলাকায় জীবিকার উদ্দেশ্যে আসে তারাই ঈদে ঘরে ফেরার জন্য এই ঝুকিপূর্ন পরিবহন বেছে নেয়।

বিগত বছর গুলোতে ঈদের আগে মালবাহী ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার নজির রয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই