মেইন ম্যেনু

ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ

ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। অসুস্থ প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য জীবনের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করতেও চিন্তাও করছেন না ভুক্তভোগীরা। কিন্তু এভাবে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার করছেন ঋণ। আবার কেউ ভাঙছেন জমানো টাকা।

রক্তে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বেধে দিয়েছে সরকার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কেউ আক্রান্ত হলে, প্লাটিলেটসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয় অন্তত কয়েকবার। প্রতিবারই গুণতে হয় টাকা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। ২৮ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় তার দুই সন্তান। কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি করান একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাকে প্রতিদিনই গুনতে হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

আব্দুস সামাদ মিয়া বলেন, বিনা মেঘে বজ্রপাতের অবস্থা। তারপরও কিছু করার নেই নিজের সন্তানকে তো আগে বাঁচাতে হবে। তারপর অন্যকিছু ভাবতে হবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী সাখাওয়াত হোসনেরও একই অবস্থা। দুই সন্তানের জীবন বাঁচাতে ঋণ করেই চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছেন তিনি।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবকিছু থেকে মিনিমাইস করে এই চিকিৎসা খরচে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে। আগামী কয়েকমাস ধরে হয়তো এটা টানতে হবে।

রাজধানীর অনেক পরিবারেই এখন নীরব কান্নার কারণ ডেঙ্গু। একদিকে রোগের ভয়াবহতা, অন্যদিকে, টাকা-পয়সার টানাটানি।

কেউ কেউ জানালেন, সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী পুরোপুরি সুস্থ হতে খরচ হয়ে যায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পক্ষের এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব। ডেঙ্গুর চিকিৎসা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে পারিবারিক অর্থনীতিতে। কেউ করছেন ঋণ আবার কেউ ভাঙছেন জমানো টাকা।

অর্থনীতি বিশ্লেষক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্নস্থানে যদি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা যায় এবং সব খরচ সরকার দেয় তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবে পরিবারগুলো।

মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও উদ্যোগি হওয়ার আহ্বানও জানান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।



মন্তব্য চালু নেই