মেইন ম্যেনু

তুষার-নাঈমদের কেন দলে নিতে চান না কোচ রোডস?

নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্রের আশপাশে একটি স্লোগান খুব বেশি শোনা যায়- ‘এই মাত্র খবর এলো, অমুক ভাই জিতে গেল। তমুক তুমি এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে।’ আজ প্রায় সারা দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে ফিরে তেমন কথাই লিখা হচ্ছিল, ‘এই মাত্র খবর এলো তুষার ইমরান, নাঈম ইসলাম আর সৌম্য সরকারকে টেস্ট দলে নেয়া হলো।’

এর মধ্যে সন্ধ্যার পর এমন কথাও চাউর হলো, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন স্বয়ং তাদের তিনজনকে দলে রাখার সুপারিশ করেছেন। তাই নির্বাচকরা তাদের ডেকেছেন। আর বলা হলো, আজ বিকেলে ঢাকা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নাকি বিসিবি বিগ বস এমন ঘোষণাও দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কথাও লিখা হয়েছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় খবর হলো, ঢাকা ক্লাবে বিসিবির প্রয়াত পরিচালক আফজালুর রহমান স্মৃতি সিক্স-এ সাইড টুর্নামেন্টের ঐ সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান উপস্থিতই ছিলেন না।

এদিকে ওই গুঞ্জনের সত্যতা যাচাই করতে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে বিসিবি পরিচালক এবং বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের অতি কাছের মানুষ ইসমাইল হায়দার মল্লিকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বোর্ড প্রধানের এমন ঘোষনার কথা জানাননি।

বিসিবির আরেক প্রভাবশালী পরিচালক এবং জাতীয় দল পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, ‘কই আমি তো কিছুই জানি না।’ আর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বললেন, ‘আমার জানামতে কাউকে ডাকা হয়নি। তবে কাল বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে জাতীয় দলের মূল বহর ঢাকা ফিরবে। কোচ ঢাকা আসলে তার সাথে বসবো। তিনি কারো কথা বললে তখন বিবেচনা করবো।’

এদিকে যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে তুষার ইমরান, নাঈম ইসালের পারফরমেন্সে যারপরনাই মুগ্ধ এবং তাদের দলে দেখতে উন্মুখ- তাদের জন্য আছে দুঃসবাদ। কোচ স্টিভ রোডসই চান না তুষার বা জাতীয় লিগে ভালো খেলা বা রান করা কেউ নতুন করে বাইরে থেকে দলে আসুক।

সেটা এমনি এমনি নয়। কেন কোচ তুষারদের চান না, তার ব্যাখ্যাও আছে। তার কথার ভাব অনেকটা এমন, এখন যে সব তরুণ জাতীয় দলে খেলছে তারা জাতীয় লিগে ভাল পারফরম করে এবং দীর্ঘ ইনিংস খেলেই দলে এসেছে। কাজেই যারা জাতীয় দলের বাইরে আছে, তাদের আর নতুন করে বিবেচনার অবকাশ নেই। এ মুহূর্তে এনসিএলের সম্ভাব্য সেরা ব্যাটসম্যান যারা, তাদের সবাই জাতীয় দলেই আছে।

আজ দুপুরে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপে স্টিভ রোডস অনেক কথার ভিড়ে বলেই ফেলেন, ‘জাতীয় দলের বাইরে যে সব ব্যাটসম্যান এনসিএল খেলছে, তারা সবাই রানে আছে। তাদের প্রত্যেকে ভাল খেলছে এবং বড় বড় ইনিংস উপহার দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, জাতীয় দলে থাকা ব্যাটসম্যানরা তাদের চেয়ে বর্তমানে ভাল খেলছে এবং বেশি রানও করছে।’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস বলেন, ‘নাজমুল হোসেন শান্ত এই সেদিন ১৮০ রানের বড় ইনিংস খেলেছে। লিটন দাসের ব্যাট থেকে এসেছে ২০০ রানের ইনিংস। মুমিনুলও সেঞ্চুরি করেছে। আর আরিফুলও ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। তারা সবাই দলে আছে এবং প্রথম টেস্ট খেলেছে। আমি মনে করি, তারা সবাই ভাল প্লেয়ার।’

জাতীয় দলের কোচ সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু আমাদের দুই মূল স্তম্ভ তামিম ও সাকিব এখন খেলতে পারছে না, তাই এখন আমাদের কাজ হলো এই সব তরুণদের পক্ষচারণ করা।’

কোচ মনে করেন, সবার জীবনেই খারাপ সময় আসে। জাতীয় দলের তরুণদেরও খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে তার বিশ্বাস, প্রথম টেস্টেও খারাপ সময় কেটেছে। এবং পরের টেস্টে সেই ভুল ত্রুটি শুধরে সম্ভাব্য সেরাদের নিয়ে দল সাজানো হবে।

স্টিভ রোডস বলেন, ‘আমি আরও ভালো রেজাল্ট চাই। তবে আমাদের সবাইকে এক সাথে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। তবেই সাফল্যের ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। ছেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে অনেক আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ড্রেসিং রুমে এমনটা দেখে আমার ভাল লেগেছে।’



মন্তব্য চালু নেই