মেইন ম্যেনু

দাড়ি কেটে টুপি ফেলেও শেষ রক্ষা হলো না খাদেম হত্যাকারীর

আজিমপুর কবরস্থান জামে মসজিদের খাদেম হানিফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। প্রধান খাদেম হানিফকে হত্যার পরে পালিয়ে গিয়ে নিজের দাড়ি কেটে ও মাথার টুপে ফেলে দিয়ে চেহারা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল গ্রেফতার সহকারী খাদেম সাইফুল ইসলাম। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে সাত দিন পরে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব তথ্য জানান।

বনজ কুমার জানান, সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আগ্রাবাদ এলাকার বেপারীকান্দি থেকে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করেছে।

খুনের নেপথ্যে
গ্রেফতারকৃত সহকারী খাদেম কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, আজিমপুর গোরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদটি গত ২০১৮ দালের ৪ নভেম্বর উদ্বোধন হয়। সেদিন থেকে আসামি সাইফুল খাদেম হিসেবে যোগদান করেন। ওই মসজিদে তিন জন খাদেম ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মী কর্মরত ছিল। এদের মধ্যে আসামি সাইফুল সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় কর্তৃপক্ষ গত রমজানের পূর্বে নিহত আবু হানিফকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেয়।

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই হানিফ তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন। স্বাভাবিকভাবেই আসামি সাইফুলকে বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দেশ দিতেন হানিফ। কিন্তু সাইফুল সব কাজ ঠিক মতো মত করতেন না। কারণ হানিফকে নিয়োগ দেওয়ার পরে সাইফুলের পদ ছোট হয়ে গেছে। তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না। এসব কারণে সাইফুল পরিকল্পনা করেন হানিফকে খুন করার।

যেভাবে খুন করা হয় খাদেম হানিফকে

পিবিআই তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হত্যার ঘটনার দিনে গত ২ জুলাই যোহরের নামাজের পরে আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে নিহত হানিফ খাবার শেষ করে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়ে। ওই সময়ে ঘরে কেউ ছিল না। এই সুযোগে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে আসামি সাইফুল রান্নাঘর থেকে একটি চাকু এনে ভিকটিম হানিফের পেটে আঘাত করে (পাড় দেয়)। এরপর হানিফ জেগে উঠলে তার মুখে বাম হাত দিয়ে চেপে ধরে আসামি সাইফুল উপূর্যপরি হানিফের বুকে, পেটে ও গলায় একাধিক আঘাত করে। হানিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে বাইরে থেকে প্লাটিকের বস্তা ও পলিথিন নিয়ে আসে এবং মৃতদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে ব্যালকনিতে একটি বাশের ঝুড়িতে রেখে দেয়।

তারপর, বাথরুম থেকে বালতিতে পানি এনে তোষকের কভার ভিজিয়ে ফ্লোরের রক্ত পরিষ্কার করে। এরপর আসামি সাইফুল আসরের নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষে আসামি সাইফুল তার ব্যবহৃত রক্তামাখা কাপড় বাথরুমে পরিষ্কার করে।

পিবিআই আরো জানায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে আসামি সাইফুল বাইরে খেতে যায়। রাত ১০ টার দিকে সে রুমে ফিরে আসে। বাহাউদ্দিন (ঝাড়ুদার) ও ফরিদ (নতুন খাদেম) বাইরে থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুমে ফিরে আসে। বাহাউদ্দিন ও ফরিদ আসামি সাইফুলকে খাদেম হানিফ কোথায় আছে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান বাইরে গেছে।

ভাঙা কবরে লাশ ফেলার পরিকল্পনা ছিল খুনির

পিবিআইয়ের মামলা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানায়, খাদেমকে হত্যার পরে গভীর রাতে তার লাশ আজিমপুর কবরস্থানের ভাঙা কবরে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সাইফুল। কিন্তু অপর খাদেম ফরিদ অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকায় আসামি সাইফুল তার সিদ্ধান্ত বদলায়। এরপর রাত ১১টা ৩০মিনিটে সাইফুল খাদেম ফরিদকে বলে যে তার বাবা মারা গেছে। এই বলে সে তার ব্যবহার্য সব জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়।

এর পরের দিন অর্থাৎ গত ৩ জুলাই রাতে ক্লিনার বাহাউদ্দিন ও নতুন নিয়োগকৃত খাদেম ফরিদ নিহত খাদেম হানিফের কক্ষে ঘুমাতে যায়। সেই সময় তারা দুর্গন্ধ পেয়ে পাশের ব্যালকনির থাইগ্লাস টান দিয়ে একটি বাশের খালি ঝুড়ির মধ্যে পলিথিন দিয়ে প্যাঁচানো একটি বস্তা দেখে। সেটি খুলে তারা খাদেম হানিফের লাশ সনাক্ত করে।

ডিআইজি বনজ কুমার জনান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে আসামি সাইফুল পালিয়ে যায়। সে প্রথমে সেনবাগ নোয়াখালী তাদের বাড়িতে যায়। পরে সেখান থেকে তার শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের খুলশীতে গিয়ে আশ্রয় চায়। সেখানে তার শ্বশুর আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানালে রেলওয়ে হাসপাতালের নিকট চাচার কাছে যায়। সেখানেও আশ্রয়ের সুযোগ না পাওয়ায় আগ্রাবাদ বেপারীকান্দি তার ফুফুর নিকট আশ্রয় নেয়। সেখানে সে আত্মগোপন করে থাকে। আর নিজের চেহারা যাতে সহজে কেউ চিনতে না পারে সে জন্য দাড়ি কেটে ফেলেন সাইফুল।



মন্তব্য চালু নেই