মেইন ম্যেনু

দুই জায়গায় এগিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এক জায়গায়

বিশ্বকাপে আজ নিজেদের শেষ ম্যাচটা খেলতে নামছে বাংলাদেশ। একটু ঝুঁকি নিয়ে বলা যায়, লর্ডসের আজকের ম্যাচটা পাকিস্তানেরও এবারের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ! ঝুঁকির কথা বলার কারণ, কাগজে-কলমের হিসাবে এখনো পাকিস্তানিদের সেমিফাইনালে উঠার সম্ভাবনা আছে। তবে গাণিতিক সেই সমীকরণটা এতোটাই কঠিন এবং অদ্ভুত যে, খোদ পাকিস্তানিরাও তা মেলানোর আশা করছে না!

ফলে তারাও নিজেদের শেষ ধরে নিয়েই নামছে মাঠে। সেমিফাইনাল স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে আরও ৪টি দলের্। তবে তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানিদের হতাশাটা অনেক অনেক বেশি। আগের ম্যাচটি পর্যন্তও যে বেঁচে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সেমি স্বপ্ন। বাংলাদেশের সেই আশা শেষ হয়ে গেছে ভারতের কাছে হারে। আর পাকিস্তানিদের আশার সলতেটা প্রায় নিভে গেছে পরোক্ষভাবে। ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ড হেরে যাওয়ায়।

যাই হোক, শেষ মুহূর্তে এসে সেমি-স্বপ্ন মিলিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানিদের মনের কষ্টটা প্রায় একই। দুই দল আজ মাঠেও নামছে প্রায় একই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে। দুই দলই টুর্নামেন্টের শেষটা করতে চাইছে জয় দিয়ে। যাতে বুঝিয়ে দেওয়া যায়, ভাগ্যের ফেরে সেমির টিকিট না পেলেও সেমিতে উঠার সামর্থ ছিল!

বাংলাদেশও এটা প্রমাণ করতে মরিয়া। মরিয়া পাকিস্তানও। শেষ পর্যন্ত কাদের চাওয়া পূরণ হবে? উত্তরটা মিলবে ম্যাচ শেষে। তার আগে পরিসংখ্যান কিন্তু এগিয়ে রাখছে মাশরাফি বিন মুর্তজার বাংলাদেশকেই!

কি অবাক হলেন? বিস্ময় ঠেকলেও বাস্তব। দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ এগিয়ে দুই জায়গায়। পাকিস্তান এক জায়গায়। এখনো পর্যন্ত দুই দল ৩৬টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। তাতে ৩১টিতে জিতেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশের জয় ৫টিতে।

সামগ্রিক এই পরিসংখানে পাকরা যোজন এগিয়ে। কিন্তু দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ আবার যোজন এগিয়ে। দুই দলের সর্বশেষ ৫ সাক্ষাতের ৪টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। মাশরাফিরা জিতেছে সর্বশেষ ৪ ম্যাচেই। ২০১৫ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে ৩ ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে মাশরাফির দল। এর পর ২০১৮ এশিয়া কাপেও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাই বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে বিশ্বকাপও। বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবারই পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে এই ইংল্যান্ডের সেই বিশ্বকাপ ম্যাচটিতে জয়ী হয়েছিল বাংলাদেশই। নর্দাম্পটনে ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বাংলাদেশ।

কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকাপে দুই দলই দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই। নর্দাম্পটনের পরিবর্তে আজকের দ্বৈরথটা লর্ডসে। ভেনু আলাদা হলেও সেই ইংল্যান্ড, সেই বিশ্বকাপের ম্যাচ। মাশরাফিরা পারবেন ২০ বছর আগের নর্দাম্পটনের সেই সুখস্মৃতিটা লর্ডসে ফিরিয়ে আনতে?



মন্তব্য চালু নেই