মেইন ম্যেনু

দুর্ঘটনার আগে বলা হয়, ৫শ ট্রেন গেলেও সরবে না কেউ

ভারতের অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার অমৃতসর থেকে দুই কিলোমিটার দূরের ধোবি ঘাটে রাবণ দহনের অনুষ্ঠান চলাকালীন এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কে এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিস্ময়কর এক তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, খোদ একজন আয়োজক নাকি অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘একটা কেন পাঁচ’শ ট্রেন চলে গেলেও একজন মানুষও ট্রেন লাইন থেকে সরে যাবেন না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাবণ বধের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কংগ্রেসের নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য নভোজাত কৌর সিধু। তিনি ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও পাঞ্জাব প্রদেশের মন্ত্রী নভোজাত সিং সিধুর স্ত্রী। রাবণ বধের ওই অনুষ্ঠান দেখতে আসা শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রেন লাইনের উপরে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান অতিথির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি মাইক্রোফোনে বলেন, ‘ম্যাডাম আপনি দেখেন, এই মানুষেরা রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে একটুও দ্বিধা করছে না। আপনার জন্য পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ট্রেন লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যদি পাঁচ’শ ট্রেনও যায় তুবও তারা লাইন থেকে সরে দাঁড়াবে না।’

এনডিটিভি বলেছে, ভিডিওটির মাধ্যমেই বোঝা যায়, মারাত্মক অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আয়োজকরা এই বিপদের বিষয়ে জানলেও কোনও ব্যবস্থা নেননি কিংবা কাউকে সতর্ক করেন নি। এছাড়া ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য নগর কর্তৃপক্ষ, রেল বিভাগ এবং মহানগর দূষণ বিভাগের কাছ থেকেও অনুমতি পাননি তারা।

অনুষ্ঠান আয়োজেনে কেবল অমৃতসর পুলিশের কাছ থেকে একটি অননুমতিপত্র (নো অবেজকশন সর্টিফিকেট) পেয়েছিলেন তারা। ওই অননুমতিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ মেনে চলবেন তারা। হাইকোর্টের ওই নির্দেশনায় বলা হয় অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনও সমস্যার সৃষ্টি করবে না এবং কেউ কোনও অস্ত্র বহন করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের অমৃতসরের ধোবি ঘাটে যোধা ফটকের কাছে রেল লাইনের ধারে রাবণ বধের অনুষ্ঠান চলছিল। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, রেললাইনের উপর উঠে অনুষ্ঠান দেখতে শুরু করেন অনেকে। এ সময় একটি ট্রেন রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে শিশুসহ অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই