মেইন ম্যেনু

ধরা পড়লেই জেল-জরিমানা : মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাঙালিরা!

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিনানিপাত করছেন সে দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী তিন লাখ বাংলাদেশি। অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি শ্রমিকদের ই-কার্ডের (অস্থায়ী পারমিট) মাধ্যমে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলেও সেটি নিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। এর ফলে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।

গত ৩০ জুন ই-কার্ড নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরই শুক্রবার (৩০ জুন) মধ্যরাত থেকে পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের সমন্বয়ে যৌথভাবে অবৈধ শ্রমিক ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়।

অভিযান শুরুর পর প্রথম দিন এক হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের অর্ধেকই বাংলাদেশি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়া স্টার জানিয়েছে, দেশটির ১৫৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট এক হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটকদের মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি, ১৩৫ জন ইন্দেনেশীয়, ১০২ জন ফিলিপিনো, ৫০ জন থাই ও দুজন ভিয়েতনামি নাগরিক রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেওয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে বলে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য। মুস্তাফার আলী জানান, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের হিসাবমতে, দেশটিতে আড়াই থেকে তিন লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে, যাদের কোনো বৈধ কাগজ নেই।

মালয়েশিয়া সরকারের ‘প্রোগ্রাম ই-কার্ডে’ উল্লেখ রয়েছে, কোনো অবৈধ শ্রমিক যদি কোম্পানি থেকে গ্রেফতার হয় তাহলে মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াও জরিমানা করা হবে। ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রিংগিট জরিমানা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ৫০ হাজার রিংগিটও হতে পারে। অপর দিকে আদালতের নির্দেশে জেল জরিমানার পর অবৈধ শ্রমিককে ১ থেকে সর্বোচ্চ ৬টি (রোতান) বেত্রাঘাত দেয়া হবে।

এ দিকে দ্য মাস্টার বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (এমবিএএম) সরকারের কাছে ই-কার্ডের মেয়াদ ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং ধীরগতি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে সহজ ও দ্রুত ই-কার্ড করতে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে তারা সহযোগিতা করবে। তারা আশা করে ই-কার্ড করার প্রক্রিয়া সহজ করা হলে নিয়োগকর্তারা অবৈধ কর্মীদের ই-কার্ড করাতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

উল্লেখ্য, ই-কার্ড করার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের নিয়ে ইমিগ্রেশনে যেতে হয়, তখন কোম্পানির আয়-ব্যয়সহ যাবতীয় তথ্য দিতে হয়। এ ছাড়া ইমিগ্রেশনের ধীরগতির কারণে নিয়োগকর্তারা ই-কার্ড করতে উৎসাহিত হন না। অভিযোগ রয়েছে শ্রমিকেরা ই-কার্ড করার জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার রিংগিত পর্যন্ত খরচ করছেন। অথচ মালয়েশিয়া সরকার ই-কার্ড ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ কে এম শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ৪ লক্ষাধিক অবৈধ শ্রমিক থাকতে পারে। এর মধ্যে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ শ্রমিক ই-কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। বাকিরাও যাতে দ্রুত আবেদন করেন সেজন্য তিনি অবৈধ শ্রমিকদের আহ্বান জানান। তিনি তাদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, শ্রমিকেরা যেন এবারের সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া না করেন। যদি কোনো কারণে সুযোগ না নেন তাহলে তাদের সমস্যা হতে পারে।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অবৈধ শ্রমিকদের ই-কার্ড নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সময়সীমা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) দেখা যায় ১৪ হাজার ৫৪১ জন নিয়োগকারীর মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ জন নিবন্ধন করেছেন।

এর মধ্যে ই-কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৭৪৬ জনের, যা মোট অবৈধ লোকের মাত্র ২৩ শতাংশ। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের ল্য ছিল প্রায় ছয় লাখ অবৈধ অভিবাসীকে ই-কার্ডের আওতায় নিবন্ধন করানো।






মন্তব্য চালু নেই