মেইন ম্যেনু

নদী পথে আড়াই কিলোমিটার সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে নদী পথে আড়াই কিলোমিটার সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা।

গত এক সপ্তাহে এ রকম প্রায় অর্ধশত মানুষকে নাফ নদীতে তেলের বোতলকে ভেলা বানিয়ে সাঁতার কেটে শাহ পরীর দ্বীপে আসতে দেখা যায়।

রোহিঙ্গা মুসলিম আব্দুল করিম(১৯) হুলুদ রঙ্গের একটি তেলের প্লাস্টিকের বোতলকে ভেলা বানিয়ে নাফ নদীতে ভাসিয়ে দেন তাদের জীবন। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্য বাংলাদেশের শাহ পড়ীর দ্বীপ। আব্দুল করিমের মত এমন অনেকেই প্লাস্টিকের ছোট একটা পা্ত্র নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন।যাদের অনেকেই এর আগে কখনোই নদী দেখেনি সাঁতার কাটেনি।মরিয়া শুধু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে।

এমনি আরেকজন রোহিঙ্গা শিশু নবী হুসাইন(১৩)। সে আগে কখনো সাঁতার কাটেনি, এমনকি নদীও দেখেনি, তারপরও নদীতে তেলের হলুদ এই বোতল নিয়ে নেমে পড়েছেন নদীতে। মরিয়া হয়ে নাফ নদীতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদী পাড়ি দেয়া নবী বলেন, ‘সাঁতারে নামার সময় আমি মনে করেছিলাম আজকেই আমার জীবনের শেষ দিন হতে চলেছে।’

রোহিঙ্গা মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর নিরাপত্তার জন্য তাদের স্বদেশভূমি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসতে মরিয়া হয়ে সাঁতার কেটে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছে।আগস্টের সহিংসতার পর থেকে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘ।

সাঁতরে বাংলাদেশে আসা আরেকজন কামাল হোসেন(১৮)বলেন, আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তাই আমাদের কাছে এর চেয়ে ভালো কোন পথ ছিলো না। কথাগুলো বলার সময় নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না সে। সে জানেন না তার পরিবার এখন কোথায় আছে?

বাংলাদেশে আসার জন্য নৌকা ভাড়া এবং দালালদের দেয়ার মত টাকা নবীর পরিাবারের কাছে না থাকার কারণে সেই এই পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিদিন তাকে অল্প খাবার খেতে হত।এভাবে চার দিন চলার পর পরিবারকে সাতরে নদী পার হওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়।

প্রথমে তার পরিবার আসতে দিতে চাইনি। তারা ২৩ জনের একটি দল এক সঙ্গে হলে ৩ নভেম্বর অবশেষে তারা বাংলাদেশে আসতে সাঁতার শুরু করে।

নদীর পানি লবণাক্ত হওয়া সাতারের সময় শরীরে নানা সমস্য তৈরি করলেও সে তার শরীরের দিকে নজর দেননি। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে ক্লান্ত, ক্ষুর্ধাত অবস্থায় শাহপরীর দ্বীপে এসে পৌঁছায় তারা। নবী এখন একা বাংলাদেশে অন্যান্য ৪০ হাজার শিশুদের সঙ্গে থাকছে।তবে তার পরিবার এবং শান্তি তার শেষে চাওয়া।






মন্তব্য চালু নেই