মেইন ম্যেনু

নিউইয়র্কে ম্যাসেজ পার্লারে বাংলাদেশি বধূ গ্রেপ্তার!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ৭৫ স্ট্রিটে অনৈতিক কাজ-কর্ম চলার অভিযোগে ‘ওষি স্পা জোন্স’ তথা ম্যাসেজ পার্লারে অভিযান চালিয়ে আরো কয়েকজনের সঙ্গে জিনাত রেহানা (৩৩) নামে এক বাংলাদেশি বধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত জনপদে এই ম্যাসেজ পার্লারে অভিযান চালায় পুলিশ।

নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছেন, ওই পার্লারে বেআইনী কাজ-কর্ম চলার অভিযোগ পেয়েই এ অভিযান চালানো হয়েছে। ভারতীয় মালিকানাধীন ওই পার্লারে বেশ কয়েকজন বাঙালি নারীও কাজ করেন।

কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর অফিস থেকে এনআরবি নিউজকে জানায়, ৩৭-৪০ ৭৫ স্ট্রিটের ওই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন জিনাত রেহানা নামে ওই বাংলাদেশি বধূ। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে জামিন প্রদান করেছেন কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টের জজ গুয়ারিনো। তবে তাকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে হবে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়াই এই পার্লারে ম্যাসেজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন জিনাত রেহানা। স্বামীর সঙ্গে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসলেও সম্প্রতি স্বামীকে ত্যাগ করেন তিনি। জিনাতের এর আগেও বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে বাংলাদেশে।

এর আগেও দেশটির জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, ফ্লাশিংসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কটি বিউটি পার্লার/ম্যাসেজ পার্লার/স্পা-তে পুলিশ চালানো অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছিল ৬ বাংলাদেশি নারী। অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় কোনো কোনো পার্লারে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, নিউইয়র্ক সিটির বিশেষ কয়েকটি এলাকায় একদল বখাটে যুবকের খপ্পরে পড়ে অনেক তরুণী গৃহিনী সংসার ছেড়ে বিভিন্ন ম্যাসেজ পার্লারে ঢুকেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন এবং স্বামীকে তাদের কাছে যেতে নিষেধ করার তথ্যও জানা গেছে।

এসব নারীদের নির্যাতিতা নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্লট করতে ওই বখাটেরা মদদ দিলেও পরবর্তীতে এসব নারীদের প্রায় সকলেই বিপথ থেকে আর ফিরতে পারেননি। কারণ, কোনো কোনো পার্লারে অনৈতিক কাজের সময় ভিডিওতে তা ধারণ করে রাখা হয়েছে।

এ হুমকিতে অসহায় নারীরা অর্থের লোভে সংসার ত্যাগ করে অন্ধকারের চোরাগলিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। গ্রেপ্তার নারীরা প্রায় সকলেই স্বামী ছেড়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে দিনাতিপাত করছেন। এ অবস্থায় কম্যুনিটির মধ্যে এক ধরণের হতাশা বিরাজ করছে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় এসে এমন বিপদগামী পথে পাড়ি জমানোর প্রবণতা কীভাবে রোধ করা যায়, তা নিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।






মন্তব্য চালু নেই