মেইন ম্যেনু

নিষেধাজ্ঞায় দেশের জেলেরা ঘরে, ইলিশ ধরে নিচ্ছে ভারতীয়রা

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। বাংলাদেশ সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে দেশীয় জেলেরা ঘরে বসে থাকলেও বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা ইলিশ শিকার করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সীমায় ভারতীয় জেলেদের ইলিশ শিকারের বিষয়ে এর আগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমুদ্রে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় জেলা মৎস্য প্রশাসন।

মৎস্য গবেষকরা আশ্বিন মাসের মধু পূর্ণিমার আগের তিন দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন মা ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজননকাল বলে চিহ্নিত করেছেন। তাই এ বছর প্রথমবারের মতো ১১ দিনের পরিবর্তে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ২২ দিন করা হয়। এ সময় শুধু আহরণ নয়, ইলিশ সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনও নিষিদ্ধ।

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে এ সময়ে উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগর মোহনায় ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে বাংলাদেশ সরকার সরকার।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশি জেলেরা মানলেও ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে নির্বিঘেœ মাছ শিকার করে যাচ্ছে। এই দলে মিয়ানমারের জেলেরাও আছে। এতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজননে বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে।

ভারতীয় জেলেদের বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ইলিশ শিকার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি সুদীর্ঘকাল ধরে জলদস্যু সমস্যা তো রয়েছেই, তার ওপর গত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে ভিনদেশি ট্রলি ও ট্রলারের অত্যাচার। এত সমস্যার বেড়াজালে দেশীয় জেলেরা আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার শ্রমিক নেতা অভিযোগ করেন, গভীর সাগরে প্রতিদিন ভারতীয় স্বয়ংক্রিয় মৎস্য শিকারি ট্রলার নির্বিঘেœ ইলিশ শিকার করে যাচ্ছে। শুধু ইলিশ প্রজনন মৌসুমেই নয়, বছরজুড়েই বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানায় চলে এসব বিদেশি ট্রলারের দৌরাত্ম।

এদিকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ উপকূলের অন্তত ৫০ হাজার জেলে ২২ দিনের জন্য বেকার হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন পরিচালিত পাথরঘাটার দুটি পাইকারি বাজার (পাথরঘাটা ও চরদুয়ানী) বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে প্রান্তিক জেলে ও মৎস্য শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান কিংবা কোনোরূপ পুনর্বাসন সহায়তার ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় জেলেরা।

সাধারণত সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে আশ্বিন মাস ‘অভাবের মাস’ হিসেবে পরিচিত। এর সঙ্গে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় চরম দুর্ভোগে এখন উপকূলের হাজার হাজার জেলে।

জেলার পাথরঘাটা পৌর শহরের একজন মৎস্যজীবী ট্রলার শ্রমিক আবুল হোসেন সিকদার বলেন, এখন পাথরঘাটার জেলেপল্লীতে মানবেতর জীবন যাপন করছে শত শত জেলে পরিবার।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, ভারতীয় জেলেদের আগ্রাসনের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও জেলার মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক ও শ্রমিকরা একাধিকবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জরুরি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি সমুদ্রে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার বিষয়ে ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলেদের দাবির বিষয়ে অবগত হয়েছেন। দ্রুত এ বিষয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই