মেইন ম্যেনু

পদ্মা সেতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের মেট্রোরেল

পদ্মা সেতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের মেট্রোরেলের কাজ। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত পদ্মা সেতু। এই অবস্থা মেট্রোরেলেরও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯ সালের মধ্যেই এমআরটি লাইন-৬ এর একাংশের কাজ শেষ করতে চায়। উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এখন জোরেশোরে কাজ চলছে।

অন্যদিকে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। পিলারের ওপর স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) স্থাপন করার পর এখন চোখে দেখা যাচ্ছে পদ্মা সেতু। বিশাল পদ্মার বুকে এটি এখন ধূসর রঙের দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ৪২টি পিলারের ওপর দাঁড়াবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। গত সেপ্টেম্বরে দুটি পিলারের (৩৭ ও ৩৮ নম্বর) কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর সেই দুই পিলারের ওপর বসানো হয় পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মা সেতু। সম্প্রতি এ স্বপ্নের সেতুর আরও একটি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে।

উত্তরায় মেট্রোরেলের কাজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ডিপো। এই এলাকায় দৃশ্যমান হয়েছে মেট্রোরেলের বেশ কয়েটি পিলার। আরও পিলার নির্মাণের কাজ চলছে দিনরাত। আর এসব পিলার নির্মাণে কাজ করছে কয়েকশ দেশি-বিদেশি শ্রমিক।

জানা গেছে, এর আগে মেট্রোরেলের সয়েল ইমপ্রুভমেন্টের (মাটি উন্নয়ন) কাজ শেষ হয়েছে। মাটির ২০-২২ মিটার গভীর পর্যন্ত জাপানি প্রযুক্তির সাহায্যে সিলেটের বালু দিয়ে কম্পাকশন (চাপ দিয়ে সংকোচন) করা হয়। এখানে কর্মীদের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে রেল বিভাগের সচিব ও মেট্রোরেল প্রকল্পের সাবেক পিডি মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর মতো মেট্রোরেলের কাজেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। সেজন্য কাজ এগিয়ে নিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজানে হামলায় ছয় জাপানি প্রকৌশলী নিহত হওয়ায় কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। পরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশিদের প্রকল্পে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্চ নেয়া হয়েছে। সেভাবেই কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে আগারগাঁও এলাকায়ও মেট্রোরেলের কাজ চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিসংখ্যান ভবনের সামনের রাস্তা ঘিরে ফেলে চলছে কর্মযজ্ঞ। রোকেয়া সরণির পরিকল্পনা কমিশনের কাছ থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়কের মাঝ বরাবর ব্যারিকেড দিয়ে এমআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে দিনরাতে। সেখানে এরই মধ্যে টেস্ট পাইলের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকৌশলীরা জানান, এখানে কন্ট্রোল রুম, সাইট অফিস, বেসিন প্লান্ট বসানোর কাজ চলছে।

জানা গেছে, আগারগাঁও মোড়ে তৈরি হবে স্টেশন। এখানেও টেস্ট পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, রিগ মেশিনে গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। লোহার খাঁচা তৈরি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ইউটিলিটি (বিদ্যুুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন) স্থানান্তরের কাজ শেষ। চলতি মাসেই আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে।

জানা গেছে, সরকার ২০১৯ সালের মধ্যেই এমআরটি লাইন-৬ এর একাংশের কাজ শেষ করতে চায়। উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এখন জোরেশোরে কাজ চলছে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের কাজে সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১২-২০২৪ সালের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। তারপর থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হয় এমআরটি প্রকল্পের কাজ।

মোট ছয়টি প্যাকেজে আটটি দরপত্রের মাধ্যমে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কাজে হাত দেয় সরকার। উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের মেট্রোরেল ডিপো নির্মাণের জন্য দুটি প্যাকেজ (১ ও ২), উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের জন্য দুটি প্যাকেজ (৩ ও ৪) এবং রোলিং স্টক (রেল কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহে একটি প্যাকেজ (৮) এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বাকি তিনটি প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-৫, ৬ ও ৭ এর বিপরীতে ঠিকাদার নিয়োগের মূল্যায়ন কাজ চলছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দেবে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। আর সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হচ্ছে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্পে থাকবে ১৬টি স্টেশন। ইতোমধ্যে এগুলোর নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় ফেইজ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এ প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।সৌজন্যে : জাগো নিউজ






মন্তব্য চালু নেই