মেইন ম্যেনু

পাবনায় শেখ হাসিনাকে গুলি করে আ.লীগ : ফখরুল

দুই যুগেরও বেশি আগে পাবনার যে ঘটনায় বিএনপির নয় জনের ফাঁসি এবং আরো ৩৮ জনের সাজা হয়েছে, সে ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি, আওয়ামী লীগের এক পক্ষই সেদিন গুলি করেছিল দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে শেখ হাসিনার বগিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

বিএনপি শাসনামলে এই ঘটনায় সে সময় রেলওয়ে পুলিশ বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করে। ২৫ বছর পর বুধবার এই মামলায় বিএনপির নয় জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে পাবনার একটি আদালত।

পরদিন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চিকিৎসকদের একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফখরুল। বলেন, পাবনার রায়ে তারা ক্ষুদ্ধ।

মির্জা ফখরুলের দাবি, সেদিন বিএনপি হামলা করেনি, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে গোলাগুলি হয়েছিল। ‘সেই গুলি ছুড়েছে আওয়ামী লীগ আর ফাঁসি হলো বিএনপি নেতাদের। ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া ফাঁসির আদেশে আমরা শুধু হতাশই নয়, ক্ষুব্ধও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এদেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নেই।’

ওই ঘটনার পর বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় ছিল, রেলওয়ে পুলিশের করা মামলার তদন্ত আর আগায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। তখন ঈশ্বরদী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল এদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি আবার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। থমকে থাকে বিচার কাজ। এই আমলেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এই হামলার পরও বিএনপি দাবি করেছিল, আওয়ামী লীগের একটি অংশ সেখানে হামলা করেছে। শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়া হয়।

পাবনার ঘটনাতেও একই ধরনের দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘ট্রেনে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় ট্রেনে এসব গুলি লাগে।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘আমরা খুব খুশি হতাম তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসে এ সমস্যা সমাধানে কথা বলতেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি চুক্তি করেছেন, মেগা প্রজেট, মেগা দুর্নীতির চুক্তি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

ড্যাবের আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, মহাসচিব আবদুস সালাম, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ওবায়দুল কবির খান, নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ।



মন্তব্য চালু নেই