মেইন ম্যেনু

প্রেম প্রত্যাখ্যানে ভোলায় তরুণের ছোড়া এসিডে ২ মেয়ে ও মা দগ্ধ


ভোলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের গজারিয়াবাজার রাঢ়ি বাড়িতে প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় এক তরুণের ছোড়া এসিডে দুই বোনের শরীর ঝলসে গেছে। এতে বড় বোন তানজিম আক্তার মালার মুখমণ্ডল, দুই চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়।

আর ছোট বোন মারজিয়ার হাত ও পেটসহ বিভিন্ন স্থান ঝলসে গেছে। আহত মেয়েদের উদ্ধার করতে গিয়ে মা জান্নাত বেগমের হাতে এসিড লাগায় তিনিও দগ্ধ হন।
মালা এবার আব্দুল মান্নান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ‘এ’ গ্রেডে এসএসসি পাস করেছে আর মার্জিয়ার বয়স আট বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজিবের বাবা ফারুক রাঢ়ি ও চাচা মো. ইউছুফকে আটক করেছে পুলিশ।

স্বজনরা জানান, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মেধাবী ছাত্রী তানজিম আক্তার মালাকে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ওই ছেলে (রাজিব)। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘরের জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করেছে এলাকার ফারুক রাঢ়ির ছেলে রাজিব রাঢ়িসহ কয়েকজন।

আহত মেয়েদের বাবা হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরে ওই ছেলে মালাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে তিনি রাজিবের বাবা ফারুক মিয়ার কাছে কয়েক দফা অভিযোগ দিয়েছিলেন।

আহত দুই বোনকে প্রথমে ভোলা হাসপাতালে এবং দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন ডাক্তার তৈয়বুর রহমান।

আহতদের স্বজনরা জানান, মালা ও মার্জিয়া সোমবার রাতে খাবার খেয়ে একসঙ্গে ঘুমাতে যায়। রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তরা এসিড নিক্ষেপ করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকার শুনে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। ভোরে দগ্ধদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন মনসুর জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া এসিডে তিনজনের শরীরই দগ্ধ হয়েছে।

তিনি জানান, অভিযুক্ত রাজিব ওই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত, এটা সত্যি। তবে ওই ছেলে এক মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছে। ফলে কে বা কারা এসিড নিক্ষেপ করেছে, বিষয়টি তদন্তে বের হয়ে আসবে। অথবা ঢাকায় অবস্থান করে ওই ছেলে কাউকে দিয়েও এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।

ভোলা সদর থানার ওসি ছগির মিয়া জানান, রাজিবের বাবা ফারুক রাঢ়ি ও চাচা মো. ইউছুফকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।



মন্তব্য চালু নেই