মেইন ম্যেনু

ফরিদপুরে এক নারী’র গর্ভের সন্তানের দাবী দুই স্বামীর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক স্ত্রীর গর্ভের সন্তানের দাবী করছেন দুই স্বামী। এই নিয়ে কয়েক দফায় গ্রাম্য সালিশ হয়েও কোন ফায়সালা করতে পারেনি সমাজপতিরা।

১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জুনাসুর গ্রামের বাদশা লস্করের ছেলে ছাবু লস্করের (৩৬) সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট ছাবুকে তালাক দেন নাজমা। এরপর থেকে বাবার বাড়িতে থাকতেন।

এরই মধ্যে একই উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের লাল মোল্যার ছেলে হেলাল মোল্যার (৩০) সঙ্গে নাজমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৭ ডিসেম্বর তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।

নতুন স্বামী হেলালের সঙ্গেও নাজমার ঝামেলা দেখা দেয়। ফাঁকে প্রথম স্বামী ছাবুর সঙ্গে বাড়তে থাকে ঘনিষ্টতা। এরই মধ্যে গত ১ মার্চ দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দেন নাজমা। নতুন করে ফিরে যান প্রথম স্বামীর ঘরে।

নাজমার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হলে জটিলতা দেখা দেয়। গর্ভের সন্তান নিজের দাবি করেছেন তার বর্তমান এবং সাবেক- দুই স্বামীই।

প্রথম স্বামী ছাবু, বর্তমানে নাজমা তার কাছেই রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নাজমা ফিরে আসার পর কনসিভ (গর্ভধারণ) করেছে। বর্তমানে সে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।’

ছাবুর দাবি, ‘আমাদের পুনর্মিলন সহ্য করতে পারছেন না হেলাল মোল্যা। এজন্য আমার সন্তানের বাবা দাবি করে তিনি হয়রানি করার জন্য স্ত্রীর নামে চুরির মামলা দিয়েছেন।’

গত ২১ এপ্রিল নাজমার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন তার দ্বিতীয় স্বামী হেলাল মোল্যা। মামলার আরজিতে বলা হয়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাজমা ও তার বাবা-মা এসে স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে গেছেন।

হেলাল মোল্যা বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে নাজমার সখ্যতা বাড়ার পর সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। আমার কাছে থেকেই সে কনসিভ করে। বর্তমানে সে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হঠাৎ করেই সে আমাকে তালাক দিয়ে ছাবুর কাছে চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘তালাকের পরে আমার বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাব নিয়ে গেছেন নাজমার পরিবার। সেসব ফেরত পেতে মামলা করার পরে তার বাবা ও স্বামী আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।’

ইতোমধ্যে হয়রানি ও নির্যাতন করার অভিযোগ এনে নাজমা বেগমও পাল্টা হিসেবে দ্বিতীয় স্বামী হেলাল মোল্যার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা ঠুকে দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে নাজমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সুরাহার জন্য তিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কয়েক দফা সালিস হলেও সমাধান হয়নি। এজন্য এখন সবাই আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন।

তবে পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসায় একাধিকার সালিস হয়েছে। ফল আসেনি। আশা করছি, অচিরেই সবপক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান করতে পারব।’



মন্তব্য চালু নেই