মেইন ম্যেনু

বরিশাল ঘুরলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ৯ থেকে ১১ জুলাই বরিশাল সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এ সফরের উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রদূত মিলার এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক উন্নতির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এ সংক্রান্ত প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা তাদের বলেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন ও তা মোকাবেলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলানোর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান এবং কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক এবং স্থানীয় লোক শিল্পীদের সঙ্গে দেখা করেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা বিষয়ক এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি, দুর্যোগ বিষয়ক প্রস্তুতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশু উন্নয়ন, ক্রীড়া, শিল্পকলা এবং বরিশালের অন্যান্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি একটি সফল গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বরিশালের ইতিহাস সম্পর্কেও খানিকটা ধারণা নেওয়ার সুযোগ পান। তিনি সেখানকার ঐতিহ্যবাহী মিয়া বাড়ি মসজিদ, অক্সফোর্ড মিশন চার্চ এবং শঙ্কর মঠ মন্দির পরিদর্শন করেন। সফরের বিভিন্ন সময়ে তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত মিলার ১৬-১৮ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য ধর্মীয় স্বাধীনতা এগিয়ে নেওয়া বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী স্থানীয় বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন ।

বরিশালে রাষ্ট্রদূত মিলার কয়েকটি স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। সেখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সফলভাবে অধ্যয়নরত ৭,৫০০ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে তাদের উৎসাহ দেন।

রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া বরিশালের কিছু সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ওই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা কীভাবে তাদের পেশাগত ও একাডেমিক জীবনকে প্রভাবিত করেছিল আর কীভাবেই বা তা নিজের এলাকার জন্য কিছু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল তা নিয়েও আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত।



মন্তব্য চালু নেই