মেইন ম্যেনু

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২৪২ রান

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে ইংল্যান্ডের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারলো না নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে কিউইদের ২৪১ রানে আটকে দিয়েছেন ইংলিশ বোলারা। ওয়ানডেতে টার্গেট একেবারে ছোট না হলেও ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের জন্য ‘মামুলিই’ বলা যায়।

ম্যাচের অর্ধেকটা পার হয়েছে। এরিমধ্যে আম্পায়ারিংয়ের ভুল বাজেভাবে চোখে পড়েছে। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে তৃতীয় বলে ওপেনার হেনরি নিকোলসের প্যাডে আঘাত করে ক্রিস ওকসের ডেলিভারি। ফিল্ডারদের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে তর্জনী তুলে দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। নিকোলস রিভিউ নিলে দেখা যায়, বলটি প্যাডে না লাগলে স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেতো। ধর্মসেনাকে ক্ষমা চাইতে হয় এবং তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন টিভি আম্পায়ার রোড টাকার।

তারপরেও ওপেনিং জুটিটা বড় করতে পারেননি মার্টিন গাপটিল। পুরো আসরে নিজের ছায়া হয়ে থাকা এ ওপেনার ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে ওকসের শিকার হন ১৯ রানে। নিজে তো গেলেনই, রিভিউটা নষ্ট করে গেলেন। যার মূল্য পরে দলের কঠিন সময়ে চুকাতে হয়েছে রস টেইলরকে।

এরপর অবশ্য নিকোলসকে নিয়ে চাপ সামাল দেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপের এক আসরে অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক রানের রেকর্ড গড়ার পথে তিনি জুটি গড়েন ৭৪ রানে।

তবে ২৩তম ওভারে আবারো ধর্মসেনার ভুলে একবার জীবন পান তিনি! লিয়াম প্লাঙ্কেটের বল উইলিয়ামসনের ব্যাট ছঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক জস বাটলারের হাতে। কিন্তু, ইংল্যান্ডের আবেদনে সাড়া দেননি ধর্মসেনা। ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান রিভিউ নিলে আল্ট্রা এজে দেখা যায়, বলটি ব্যাট ছুঁয়েছে। ফলে আবারো ক্ষমা চাইতে হয় ধর্মসেনাকে। আউট হয়ে ফেরেন ৫৩ বলে ৩০ রান করা উইলিয়ামসন।

নিকোলসকেও দ্রুতই অধিনায়কের পথ ধরান প্লাঙ্কেট। বোল্ড হওয়ার আগে ৫৫ রান করে যান তিনি। ১১৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া নিউজিল্যান্ডকে যখন টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ রস টেইলর টিক তখনই আম্পায়ার মারিয়াস ইরাসমুসের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হলেন। দলকে ফেলে গেলেন আরো বিপদে। মার্ক উডের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আঙুল তুললেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিলো।

টেইলের পোড়াকপালের পেছনে তার সতীর্থ গাপটিল আর নিকোলসের হাতও কম নয়। ম্যাচের সপ্তম ওভারে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন ১৯ রান করা গাপটিল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় নিয়েছিলেন রিভিউ। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বরং, বড় লোকসানটা হয়ে গেছে রিভিউ নষ্ট করে। রিভিউ নেয়ার আগে গাপটিল পরামর্শ করেছিলেন নিকোলসের সঙ্গে। কিন্তু তিনিও সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি।

রিভিউটা হাতে থাকলে হয়তো বেঁচে যেতেও পারতেন টেইলর। এরপর টম লাথাম একপাশ আগলে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকলেও তাকে ঠিকভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্যরা। ৫৬ বলে ৪৭ রানের কার্যকরি ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।

বল হাতে ৩টি করে উইকেট তুলে নেন ক্রিস ওকস এবং লিয়াম প্লাঙ্কেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন জোফরে আর্চার এবং মার্ক উড।

স্কোর:
নিউজিল্যান্ড ২৪১/৮ (৫০)
মার্টিন গাপটিল ১৯ (১৮)
হেনরি নিকোলস ৫৫ (৭৭)
কেন উইলিয়ামসন ৩০ (৫৩)
রস টেইলর ১৫ (৩১)
টম লাথাম ৪৭ (৫৬)
জেমস নিশাম ১৯ (২৫)
কলিন ডি গ্রান্ডহোম ১৬ (২৮)
মিচেল স্যাটনার ৫* (৯)
ম্যাট হেনরি ৪ (২)
ট্রেন্ট বোল্ট ১* (২)

বোলার
ক্রিস ওকস ৯-০-৩৭-৩
জোফরে আর্চার ১০-০-৪২-১
লিয়াম প্লাঙ্কেট ১০-০-৪২-৩
মার্ক উড ১০-১-৪৯-১
আদিল রশিদ ৮-০-৩৯-০
জেন স্টোকস ৩-০-২০-০



মন্তব্য চালু নেই