মেইন ম্যেনু

রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেফতার

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেএসডির সহ-সভাপতি ও আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাত ৯টার পর ডিবি পুলিশের একটি দল আমাদের বাসায় আসে। তখন আমি পার্টি অফিসে ছিলাম। পুলিশ আমাদের বাসা ঘিরে রেখেছে শুনে বাসায় আসি। তখন গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা বলেন, তাঁরা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে নিয়ে যেতে এসেছেন। পরে রাত ১০টার দিকে তাঁরা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে নিয়ে যান।

তানিয়া রব বলেন, যত দূর শুনলাম রংপুরে দায়ের হওয়া একটি মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।

গত ১৬ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা, ভোলা, জামালপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রামে একটি করে এবং কুমিল্লায় দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলার মধ্যে ঢাকা, জামালপুর ও কুড়িগ্রামের একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’-এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। সেটি হচ্ছে যে বলা হচ্ছে যে আপনি এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় বা যুক্তফ্রন্ট বলছে, ঐক্যফ্রন্ট, এই ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন, আপনি বলেছেন আপনি একজন নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু অনেকেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে আপনি জামায়াতের প্রতিভূ হয়ে ওখানে উপস্থিত থাকেন। এটি একটি প্রশ্ন। আপনি কি আসলেই জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে ওখানে উপস্থিত থাকেন কি না। এক নম্বর প্রশ্ন। আর দুই নম্বর প্রশ্ন হচ্ছে…।’

এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে রেগে গিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নাই। আপনি এই প্রশ্ন করেছেন, আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। অন্য প্রশ্ন করেন। শিক্ষিতা ভদ্র মহিলা হিসেবে অন্য প্রশ্ন করেন।’

এরপর সঞ্চালক মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সকলেই আমার সম্মানিত অতিথি। তাঁদেরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ কেউই করতে পারেন না। উনি প্রশ্ন করেছেন যেটি।’

এ সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে যে আমি জামায়াতের লোক। আপনি সেটা বন্ধ করেন না কেন?’

মাসুদা ভাট্টিকে প্রকাশ্যে সরাসরি অনুষ্ঠানে চরিত্রহীন বলায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ মন্তব্যের জন্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ফোন করেন এবং লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

এদিকে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টিকে আজ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।



মন্তব্য চালু নেই