মেইন ম্যেনু

ভয়ঙ্কর পাইলস, নারীরা কতটা সচেতন?

পাইলস বা অর্শ হলো মলদ্বারে এক ধরনের রোগ, যেখানে রক্তনালীগুলো বড় হয়ে ভাসকুলার কুশন তৈরি করে। এটি অস্বস্তিকর এবং অসহনীয় একটি সমস্যা। আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা পাইলসের সমস্যায় ভোগেন। পাইলসের রোগী সাধারণত ব্যথায় ভোগেন বেশি। পুরুষরা এই বিষয়টি নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেও নারীরা সব সময় লুকিয়ে রাখেন, যার জন্য তারা আনুং বেশি সমস্যার সেমিসে্ গবউ

দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পাইলস হতে পারে। আবার অতিরিক্ত স্থূলতাও হতে পারে পাইলসের কারণ। বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা সাধারণত পাইলসে ভোগেন বেশি।
পায়ুপথের এসব সমস্যা বেশিরভাগ নারী লুকিয়ে রাখেন বা এ নিয়ে কথা বলতে বিব্রত হন, যা ডেকে নিয়ে আসতে পারে নানা সমস্যা।
কখনো বারবার পাতলা পায়খানা হওয়ার ফলেও পায়ুপথের সমস্যা হতে পারে। মলত্যাগের পর ব্যবহৃত টয়লেট পেপারে রক্তের ছোপ পাইলসের লক্ষণ হতে পারে। কখনো কখনো নরম গোটা পায়ুপথে বেরিয়ে আসতে পারে। শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থও বেরোতে পারে।
পায়ুপথের ভেতরের অংশ চিরে যাওয়াকে ‘ফিসার’ বলা হয়। এমন হলে মলত্যাগের সময় ব্যথা লাগতে পারে। কিন্তু, এগুলোর চিকিৎসা সহজ। সব সময় যে অস্ত্রোপচার লাগবে, তাও নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ আরো সহজ।
আসুন জেনে নেই পাইলস কেন হয়, এর প্রতিকারই বা কি?
এর সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
১. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
২. শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া
৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন
৪. গর্ভাবস্থা
৫. লিভার সিরোসিস
৬. মল ত্যাগে বেশি চাপ দেয়া
৭. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ) ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা
৮. টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা
৯. বৃদ্ধ বয়স
১০. পরিবারে কারো পাইলস থাকা
১১. পায়ুপথে যৌন মিলনে অভ্যস্ততা
১২. গর্ভাবস্থার শেষের দিকে অনেকের পাইলস রোগটি দেখা দেয়। শিশুর গ্রোথের সঙ্গে মলদ্বারে চাপ পড়লে নারীর পাইলস হতে পারে।
১৩. ফ্যাটি ও হাই প্লোটিনযুক্ত খাবার যেমন: গরুর মাংস, চিজ, মাখন, ফ্রাইড, চকোলেট, আইসক্রিম, কোমল পানীয় ইত্যাদি বেশি খেলে পাইলস হতে পারে।
১৪. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।
পাইলসের লক্ষণসমূহ: মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে;
১. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া।
২. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনো কখনো এমনো হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
৩. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া।
৪. কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।
মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে;
১. মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
২. কখনো কখনো রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।
পাইলস রোগে করণীয়:
১. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা
২. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পানি (প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করা
৩. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা
৪. প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো
৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
৬. টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা
৭. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা
৮. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লেকজেটিভ বেশি গ্রহণ না করা
৯. মল ত্যাগে বেশি চাপ না দেওয়া
১০. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিৎসা নেয়া।
কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।
ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন; ভিজিয়ে না রেখে পানিতে ভুসি মেশানোর পরপরই খেয়ে নিন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
মলত্যাগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে বাথরুমে যেতে দেরি করা ঠিক নয়; যত দেরি করবেন, অন্ত্রের ভেতর থাকা মল থেকে পানি শোষিত হয়ে মল আরও শক্ত হয়ে যাবে।
পায়খানা নরম রাখার সিরাপ, খাওয়ার অন্যান্য ওষুধ, পায়ুপথে ব্যবহারের ওষুধ বা গরম পানিতে বসার মতো সহজ চিকিৎসার মাধ্যমেও আপনি সুস্থ হতে পারেন।
একটি বোল বা বাথটাবে কুসুম গরম পানি নিয়ে দিনে তিনবার অথবা প্রতিবার পায়খানার পর ১৫-২০ মিনিট করে কুসুম গরম পানিতে বসলে পায়ুপথের যন্ত্রণা অনেকটাই কমে। পানিতে বসার পর ভেজা অংশ হালকাভাবে মুছে নিতে হয়।
চিকিৎসক আপনাকে পরীক্ষা করে কিছু জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারও তেমন জটিল নয়। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
যারা এমন সমস্যায় ভুগছেন, তারা চিকিৎসা নিন। অবহেলা করবেন না। অস্বস্তি করবেন না। মনে রাখবেন, যেকোনো সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করানো সহজ, জটিলতার আশঙ্কাও কম।






মন্তব্য চালু নেই