মেইন ম্যেনু

মাস্তানাম্মা: রান্না দিয়ে ইউটিউব মাতানো শতবর্ষী দাদীমা

বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ইউটিউবার ভারতের ১০৭ বছর বয়সী মাস্তানাম্মা মারা গেছেন। মাস্তান্নামা তাঁর খুব অসাধারণ কিছু রান্নার রেসিপি ইউটিউবে শেয়ার করার পর বিপুল খ্যাতি পেয়েছিলেন। তার ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখেছেন লাখ লাখ মানুষ।-বিবিসি বাংলা।

তাঁর রান্নার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এগুলো একেবারেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জিনিস দিয়ে খুবই সনাতনী পদ্ধতিতে করা।

‘কান্ট্রি ফুডস’ নামে তার ইউটিউব চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার ছিল দশ লাখের বেশি। ইউটিউবে তার যে কয়েকশো রান্নার ভিডিও রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে ‘তরমুজ চিকেন।’

ইউটিউব চ্যানেলটি আসলে চালাতেন তার নাতি এবং নাতির বন্ধু-বান্ধব। ২০১৬ সালে এটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

মাস্তানাম্মার জন্ম অন্ধ্র প্রদেশে। ২০১৭ সালে তিনি বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন তার বয়স ১০৬ বছর।

তার ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, তিনি গ্রামে খোলা মাঠে বসে রান্না করছেন। তাঁর রান্নার সাজ-সরঞ্জাম খুবই সামান্য।

তিনি সব্জি কুটতেন বটি দিয়ে। তরকারির খোসা ছাড়াতেন খালি হাতে নখ দিয়ে।

আর খাবার পরিবেশন করা হতো কলাপাতায় করে।

বিবিসির মারাঠী বিভাগের সাংবাদিক ওংকার কর্মামবালেকার ২০১৬ সালে মাস্তানাম্মার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। তিনি বলছেন, মাস্তানাম্মার রন্ধনশৈলি একেবারেই আলাদা। ইউটিউবে সাধারণত যে ধরণের রান্নার রেসিপি পাওয়া যায়, সেখান থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম।

তিনি নিজের হাতে কাঠ জ্বালিয়ে চুলা ধরাতেন, তেলের স্টোভ তার পছন্দ হতো না। আর মাছ রান্না করতে পছন্দ করতেন, কারণ পাশের নদী থেকে একেবারে তাজা মাছ পাওয়া যেত।

“একেবারে নিজস্ব স্টাইলের প্রথাগত ভারতীয় রান্না দিয়েই আসলে তিনি তারকায় পরিণত হয়েছিলেন।”

কান্ট্রি ফুডস ইউটিউব চ্যানেলে সোমবার মাস্তানাম্মার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়।

এরপর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার রেসিপির প্রশংসা করেছেন, তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাকে বর্ণনা করতেন ‘দন্তবিহিন হাসিমুখের দাদীমা’ বলে। তরমুজের ভেতর মুরগী রান্নার যে রেসিপির জন্য তিনি বিখ্যাত, সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল।

তার অন্যান্য জনপ্রিয় রান্নার মধ্যে আছে বেগুনের তরকারি এবং কাতলা মাছের তরকারি।



মন্তব্য চালু নেই