মেইন ম্যেনু

রমজানেও বনলতায় ‘বাধ্যতামূলক’ খাবার!

রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে নতুন চালু হওয়া বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ‘বাধ্যতামূলক’খাবার নিয়ে বিতর্ক চলছেই। রমজান মাসের প্রথম দিনে যাত্রীদের হাতে হাতে খাবারের প্যাকেট ধরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ রোজাদার যাত্রীরা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের শুক্রবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে সকাল ৭টায় বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। আবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

এই ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীদের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। এ জন্য টিকিটের সঙ্গেই ধরে নেয়া হয় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা। তবে শুরুর পর থেকেই খাবার নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক।

এ ঘটনায় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা যাত্রীদের জন্য খাবার বাধ্যতামূলক না করার দাবি তোলেন। একই দাবি তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তাদের এই দাবিকে সমর্থন দেন।

এ অবস্থায় রোববার খাবারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক না রাখার কথা জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তবে পরদিন সোমবারও রোজার মধ্যে যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। অথচ বনলতার যাত্রার সময় সেহরি কিংবা ইফতারের কোনোটাই পড়ে না। ফলে রোজার দিনে খাবার নিয়ে বেকায়দায় পড়েন যাত্রীরা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনা। অনেকেই খাবারের বিষয়টি যাত্রীদের ‘ঐচ্ছিক’করে দেয়ার জন্য মন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনার জন্য বিরতিহীন ট্রেনে চড়তে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে।

এ অবস্থায় বনলতার খাবার নিয়ে সৃষ্ট সংকটসহ সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় নানা বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তদন্ত চেয়েছেন রাজশাহী সদরের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাদশা বলেছেন, এ নিয়ে তিনি রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একটি চিঠি দেবেন। সোমবার রাজশাহীর সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ সফিউদ্দিনের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রেলওয়ের মতো একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় এমন বিশৃঙ্খলা চলতে দেয়া যায় না। বিশেষ করে রেলসেবায় যাত্রীদের আস্থা নষ্ট করে এমন সিদ্ধান্ত কেন, কাদের স্বার্থে নেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এই দাবিটি তোলা আমি আমার দায়িত্ব মনে করি।



মন্তব্য চালু নেই