মেইন ম্যেনু

‘লাস্ট বেঞ্চের’ সেই বাংলাদেশি ছেলেটি গুগলের ডিরেক্টর

বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিরেক্টর) বাংলাদেশের ছাত্র জাহিদ সবুর। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি গুগলে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জাহিদ নিজেই তার ওই অর্জনের কথা জানিয়েছেন।

অথচ ১৬ বছর আগে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি জাহিদ সবুর। অথচ ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। পরে ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবিতে। সেই দিনগুলোতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান তার অতটা ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে নিজেকে ভেঙেচুরে, নতুন করে গড়ে সেই জাহিদ এখন হয়ে গেছেন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার তথা ডিরেক্টর!

জাহিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে। বাবা অধ্যাপনা করতেন কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। যখন তার আট বছর বয়স, তখন পরিবারের সঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। তাকে ভর্তি করানো হয় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে চলে যান অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে।

স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই তিনি প্রথম হতেন। তবে ক্লাসে রোল থাকত নিচের দিকে। মুখস্থবিদ্যায় এতটুকু ভালো ছিলেন না। ও লেভেলে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করলেও এ লেভেলে খুব খারাপ অবস্থা হয়। যার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তাই বলে জাহিদের স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন শেকড় থেকে শিখরে।

জানা গেছে, জাহিদ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছেন (এআইইউবি)। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় তাকে অনেক কটূ কথা শুনতে হয়েছে। তিনি মুদি দোকানে পড়াশোনা করেন এমন কটূক্তিও করেছেন কেউ কেউ। নিজের যোগ্যতায় এবার তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জাহিদ ২০০৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিটিতে।

প্রথম কাজ শুরু করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম নিয়ে ছিল তার প্রথম প্রকল্প। একটা সময় গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যান। গত ২ মে পদোন্নতি পেয়ে ডিরেক্টর হয়ে গেছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘পিছিয়ে পড়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাহিদ সবুর মনে করেন এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়লে নেতিবাচক বলা হবে এর কোনো ভিত্তি নেই। নিজেকে এগিয়ে নিতে নিজের সঙ্গেই প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। শিখতে হয় নতুন কিছু।’

সারাবিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনটিতে এখন ফুলটাইম কর্মী আছেন লাখখানেকের মতো। এদের মধ্যে আড়াইশ’ জনের মতো আছেন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। জাহিদ এদেরই একজন। একজন গুগল প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসেবে জাহিদ দুই কোটি টাকার উপরে বেতন পাচ্ছেন।

জাহিদ নতুনদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সফলতার জন্য ইংরেজি জানতে হবে, অন্য ভাষা জানতে হবে। ভাষা একটা দক্ষতা, যা আপনার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দিবে। এদেশে কেউ ইংরেজিতে পোস্ট করলে, কথা বললে অন্যরা গালিগালাজ করে, তখন তাদের দেশপ্রেম উতলে ওঠে, অথচ কেউ কেউ অন্য ভাষা শিখে বিদেশে গিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে গিয়ে দেশকে সম্মানিত করছে। কোনটা দেশপ্রেম বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহিদ। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাবে যদি আমরা বদলাই।



মন্তব্য চালু নেই