মেইন ম্যেনু

শপিংমলের গোপন ক্যামেরা থেকে বাঁচতে হলে যা করতে হবে

কেনাকাটা করার জন্য অবশ্যই শপিংমলে যেতে হয়। এর কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু জানেন কি, শপিংমলে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে? বিশেষ করে নারীরা এ ধরনের কাজের শিকার বেশি হন।

শপিংমলের কিছু অসাধু কর্মী এমন কিছু কাজ করে যাতে নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরা সংযুক্ত করা।

বিষয়টি হতে পারে এরকম, ধরা যাক আপনার খুব প্রিয় মানুষটি শপিং করতে গেছে। কাপড় পছন্দ করার পর তিনি যখন ট্রায়াল রুমে যাবেন, তখনই ঘটবে বিপত্তি। গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়বে তার কার্যক্রম। পরবর্তীতে এটা ছড়িয়ে যেতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে নিজে সাবধান থাকতে হবে এবং অন্যকেও সাবধান থাকতে বলতে হবে। তবেই এসব ফাঁদ থেকে প্রিয়জনদের বাঁচানো সম্ভব।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের উপকার করে তেমনি কিছু মানুষ এটাকে খারাপ কাজেও ব্যবহার করে। এরকম কিছু মানুষই আধুনিক শপিং সেন্টারের ট্রায়াল রুমে সেট করে রাখে গোপন ক্যামেরা। এসব গোপন ক্যামেরা অনেক সময় টয়লেটেও সেট করা হয়। ফলে বিপন্ন হয় আমাদের মা-বোন কিংবা অন্যান্য প্রিয়জনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা।

ট্রায়াল রুম কিংবা টয়লেটে অভ্যন্তরীণ দৃশ্য ধারণ প্রত্যেকের জন্যই খুব বড় একটি হুমকি। এটা থেকে বাঁচতে গোপন ক্যামেরা আছে কীনা তা আমাদেরকে আগে থেকেই শনাক্ত করা শিখতে হবে। আসুন দেখে নিই সেটা কীভাবে করা যায়-

রুমে গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় খুব সহজে। কাজটি আপনিও করতে পারেন মাত্র এক মিনিটে। এজন্য ট্রায়াল রুমে (যেখানে কাপড় বদল করবেন) ঢুকে আপনার মোবাইল থেকে কাউকে কল দেয়ার চেষ্টা করুন। যদি কল করা যায় ও নেটওয়ার্ক ঠিক থাকে, তাহলে বুঝবেন গোপন ক্যামেরা নেই। আর যদি কল করা না যায় ও নেটওয়ার্ক হঠাৎ করে একদম ডাউন হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেখানে অবশ্যই গোপন ক্যামেরা রয়েছে।

গোপন ক্যামেরার সঙ্গে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থাকে। সিগন্যাল ট্রান্সফার করার সময় এর ইন্টারফিয়ারেন্স হতে থাকে। এজন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক সেখানে ঠিকমতো কাজ করে না।

এছাড়াও বর্তমানে ট্রায়াল রুমে এক ধরনের আয়না ব্যবহার করা হয়। এটাও অনেক বড় একটা হুমকি। এই আয়নাকে বলা হয় ‘টু-ওয়ে মিরর’। এর সাহায্যে আয়নার পেছনে থেকেই যে কেউ দেখে নিতে পারে গোপন মুহুর্ত।

আজকাল টয়লেট বা ট্রায়ালরুমে অনেক ক্ষেত্রেই টু-ওয়ে মিরর ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ আয়নার মতোই নিজেকে দেখতে পাওয়া যাবে কিন্তু আয়নার পেছনে কেউ থাকলে তাকে দেখা যাবে না। অথচ সে আপনাকে স্পষ্ট দেখতে পাবে। আর সেখান থেকেই তৈরি হবে গোপন মুহূর্তের ভিডিও।

টু-ওয়ে মিরর আছে কীনা যেভাবে বুঝবেন-
শপিংমল অথবা দোকানের যে ট্রায়ালরুমে আপনি কাপড় পরিবর্তনের জন্য ঢুকছেন সেখানে কোনও আয়না থাকলে তার সামনে আপনার আঙ্গুল তির্যকভাবে রাখুন। এভাবে রাখার পর যদি আয়না ও আঙ্গুলের মধ্যে একটু ফাঁকা জায়গা থাকে তাহলে বুঝতে হবে আয়নাটি ঠিক আছে। আর যদি কোনও ফাঁকা জায়গা না থাকে তাহলে বুঝতে হবে আয়নাটি সেই ‘টু-ওয়ে মিরর’। অর্থাৎ এই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কাপড় পরিবর্তন করলে আয়নার পেছন থেকে যেকেউ আপনাকে দেখতে পাবে।



মন্তব্য চালু নেই