মেইন ম্যেনু

শাশুড়ির ডাকাডাকিতে ঘুমের ব্যাঘাত, ব্লেড দিয়ে কেটে জবাই

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে গত শনিবার (২৪ নভেম্বর) ৭০ বছরের অসুস্থ বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে নুরজাহানের পুত্রবধূ রোজিনা বেগম (৪০)।

অসুস্থ শাশুড়ির ব্যবহারে ক্ষিপ্ত হয়ে নখ কাটার ব্লেড দিয়ে কয়েক দফায় গলা কেটে জবাই করার কথা স্বীকার করে সে। গত রোববার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে আদালতে এমন জবানবন্দি দেবার পর আদালত রোজিনা বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জবানবন্দিতে ঘাতক পুত্রবধূ রোজিনা বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তার শাশুড়ি অসুস্থ ছিলেন। তিনি বিছানাতে প্রসাব পায়খানা করতেন। কারণে অকারণে তিনি শুধু ডাকাডাকি করতেন। কখনো আবার ঠিকমত দেখা শোনা না করলে ছেলের কাছে অভিযোগ করতেন। ফলে তার স্বামীও মাঝে মধ্যে তাকে গালাগালি করাসহ মারপিট করতেন। এসব কারণে শাশুড়ি নুরজাহান বেগমের ওপর ক্ষিপ্ত মনোভাব তৈরী হয়।

গত শনিবার গভীর রাতে তার শাশুড়ি নুরজাহান বেগম কয়েকবার তাকে ডাকাডাকি করলে এতে রোজিনার ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার স্বামী বারেক শেখ ও দুই ছেলে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ক্ষেতে ফুলকপি তুলতে যায়। এ সুযোগে তিনি ঘরে থাকা নখ কাটার ব্লেড দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় শাশুড়ি নুরজাহানকে কয়েক দফায় পোজ মেরে জবাই করে হত্যা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে বারেক শেখ (রোজিনার স্বামী) অজ্ঞাত আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নিহতের ছেলে বারেক শেখ, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম ও বড় ছেলে তৌহিদুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বালিয়াকান্দি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের পর বারেক শেখ ও তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হলেও ঘাতক পুত্রবধূ রোজিনাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়। পরে রোববার বিকালে নিহতের পুত্রবধূ রোজিনা বেগম ও তার শিশুকন্যা পরশিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে সে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে আদালত রোজিনা বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং শিশুকন্যা পরশিয়াকে তার বাবা বারেক শেখের জিম্মায় দেন।



মন্তব্য চালু নেই