মেইন ম্যেনু

সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক দল বিজেপি’র আত্মপ্রকাশ

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও সমমনা অর্ধশতাধিক সংগঠনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)’ নামে সংখ্যালঘুদের জন্য একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করা হয়েছে। যার নির্বাচনী প্রতীক থাকবে পদ্মফুল ও পদ্মফুলের নীচে দু’টো হাত।বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও সমমনা সংগঠনগুলো এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও জনতা পার্টির সমন্বয়ক মিঠুন চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া ও স্বচ্ছ রাজনীতিবিদগণের খোঁজে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, গণতন্ত্র ও আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণে, শোষণমুক্ত সমাজ, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা নিম্ন লিখিত সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছি। সংগঠনসমূহ: (১) বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি (২) মুক্তির আহবান (৩) বাংলাদেশ সচেতন সংঘ (৪) জাগো হিন্দু পরিষদ (৫) আনন্দ আশ্রম, (৬) বিদ্যার্থী সাংসদ, (৭) রিও (৮) জাগো হিন্দু পরিষদ (৯) বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি (১০) শিবসেনা শক্তি মিশন (১১) হিন্দু লীগ (১২) জাতীয় সংস্কার সমিতি (১৩) বেদ বেদান্ত সংস্কার কমিটি (১৪) হিন্দু ঐক্য জোট (১৫) হিউম্যান রাইটস (১৬) সনাতন সংঘ (১৭) মৈত্রী সেবা সংঘ (১৮) বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (১৯) মাইনরিটি রাইট ফরম (২০) বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত কমিটি (২১) হরিজন ঐক্য পরিষদ (২২) বাংলাদেশ সেবা শ্রম (২৩) সমাজ সেবা আশ্রম (২৪) গনেশ পাগলা সম্প্রদায় (২৫) তফশীল জাতি ফেডারেশন (২৬) সনাতনী আর্য সংঘ (২৭) সনাতনী জাগরণী সংঘ (২৮) বাংলাদেশ সেবাশ্রম (২৯) মতুয়া সম্প্রদায় (৩০) বাংলাদেশ মাইনরিটি ফ্রন্ট (৩১) বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পার্টি (৩২) বেদ কালচার সোসাইটি (৩৩) হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি (৩৪) মাদারীপুর সংস্কার সমিতি (৩৫) বাংলাদেশ দেবত্তোর সংস্কার কমিটি (৩৬) ভারত সেবাশ্রম (৩৭) আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ (৩৮) মতুয়া মিশন (৩৯) শ্রী শ্রী গীতা সংঘ কল্যাণ ট্রাস্ট (৪০) শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ সংঘ (৪১) বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংঘ (৪২) গুরু চাঁদ শিক্ষা ট্রাষ্ট (৪৩) বাংলাদেশ মতুয়া সংগঠন (৪৪) হরিজন সম্প্রদায় (৪৫) বাংলাদেশ ঋষি সম্প্রদায় (৪৬) দলীত সম্প্রদায় (৪৭) বাংলাদেশ হিজড়া সম্প্রদায় (৪৮) বাংলাদেশ বৌদ্ধিস্ট ফেডারেশন (৪৯) সনাতনী শিক্ষা ও সংস্কার সংঘ (৫০) আনন্দ মার্গী প্রচারক সংঘ প্রমুখ।
দলটির নাম প্রকাশ করে মিঠুন চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের দাবিতে ও অর্ধশতাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আমাদের ৩০০ আসনের প্রার্থী মনোনয়নের স্বার্থে, সকলের সমন্বিত উদ্যোগে আজ থেকে এই রাজনৈতিক জোট ‘বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা হল। যার নির্বাচনী প্রতীক থাকবে পদ্মফুল ও পদ্মফুলের নীচে দু’টো হাত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে এই রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে বলা হয়, দেশবাসীর সমর্থন নিয়ে আমরা সরকারে গেলে- অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনের আইনী জটিলতা অনতিবিলম্বে নিরসন করে, অতি দ্রুততর সময়ের মধ্য তা বাস্তবায়ন করা হবে। সকল দাবিদারদের দাবী করা সম্পত্তি অতি অল্প সময়ের মধ্য ফেরৎ দেয়া হবে।
সংবিধান সংশোধন করে সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।
প্রত্যেকটি বিভাগকে প্রদেশে উন্নীত করা হবে। রাজধানী ঢাকার চাপ কমানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রত্যেকটা প্রদেশেই হবে আলাদা-আলাদা সরকার। সংসদ হবে তার পরিপূরক ও কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের প্রত্যেক গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে রেশন কার্ডের আওতায় আনা হবে।
কর্মজীবী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রত্যেক হাইস্কুল ও কলেজে আইটি শাখা স্থাপন করা হবে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
নারী শিক্ষা উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন করা হবে।
সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়, সংখ্যালঘু ফাউন্ডেশন ও আলাদা বাজেট প্রনয়ণ করা হবে।
স্বাস্থ্য সেবার জন্য বর্তমানে ইউনিয়নে স্থাপিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে উন্নয়ন করে হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শুধু তাই নয়, দেশের সকল এমপি, মন্ত্রী, শিল্পপতি, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেকেই নিজ দেশে চিকিৎসা নিতে হবে এবং আমাদের সরকার তার ব্যবস্থা নিবে। তারপরও কেউ এ নিয়মের বাইরে গেলে চিকিৎসার উপর শতভাগ করারোপ করা হবে।
সকল ঋণ খেলাপী ৮০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে।
সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদের ন্যায় অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় স্থাপন করা হবে। সংখ্যালঘুদের দাবী করা সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ সংস্কৃত ও পালিবোর্ডের নিয়ন্ত্রণে সকল সংস্কৃত কলেজের পন্ডিত/প্রভাষকগণের বেতন ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ন্যায় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।
সরকারি চাকুরির বয়স ৩৫-৪০ বছরে উন্নীত করা হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা ইন্টারভিউতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধান ছাড়া কোনো এমপি, মন্ত্রী ও শিল্পপতি, ব্যবসায়িরা ২০ লাখ টাকার উপরে গাড়ি কিনতে পারবে না। যদি কেউ শখের বশবর্তী হয়েও এ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে গাড়ি ক্রয় করেন, তবে ক্রয় করা মালিকগণকে অবশ্যই অতিরিক্ত শতভাগ কর পরিশোধ করতে হবে।
ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন প্রণয়ন করা হবে।
ধর্ম যার-যার, রাষ্ট্র সবার। এ শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রত্যেক ধর্মকে সমান মর্যাদা দিয়ে প্রত্যেক সরকারি ঐচ্ছিক ছুটিসহ দুর্গাপূজায় তিনদিনের ছুটির গেজেট প্রকাশ করা হবে।
প্রত্যেক বেকার ছেলে-মেয়ে তার মূল সার্টিফিকেট ব্যাংকে জমা রেখে ব্যবসা করার জন্য শর্তহীনভাবে ৫ হতে ১০ লাখ টাকা করে এককালীন ঋণ প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। গ্রামে কিভাবে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে শষ্যবীমাসহ সহজ শর্তে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান পদ্ধতি চালু করা হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরকে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যতে সাজানো হবে। তাছাড়া ঢাকাসহ প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেয়া হবে না। এটি কঠোর আইন করে তা দমন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মিঠুন চৌধুরী। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অচিন্ত কুমার দাশ, বাসুদেব চন্দ্র সেন, ড. বিশ্বনাথ সরকার, ড. মনোজ বিশ্বাস, দিলীপ দাস গুপ্ত, সুনীল চন্দ্র মল্লিক, দেব দুলাল সাহা, আশিক ঘোষ অসিত, অধ্যক্ষ অরবিন্দ অম্বরীশ সরকার, সুকমল রায়, দীপক গুপ্ত, দুলাল সাহা, সুজন কুমার ঘোষ, বিদ্যুৎ, দেবাশীষ সাহা, পরিমল দাস, বিজয় কাব্য, সৌমেন মন্ডল, জীবন কুমার রায়, অশোক কুমার সরকার, জ্ঞান চন্দ্র সরকার, নিহার রঞ্জন বিশ্বাস, মো. মামুন, কার্তিক কর্মকার, হারাধন দাস, বেলা রাণী রায়, প্রশান্ত কুমার মল্লিক, সবুজ কৃষ্ণ মুরারী, শৈলেন কুমার সরকার প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই