মেইন ম্যেনু

সনদের স্বীকৃতি : কওমি আলেমদের শোকরানা সমাবেশের ডাক

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি পাওয়ায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা সমাবেশের ডাক দিয়েছে কওমি শিক্ষা বোর্ড হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া। আগামী ৫ নভেম্বরের এই আয়োজনে অতিথি হয়ে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সন্ধ্যায় কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রধান আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা নিতে আপত্তি জানান। পরে শোকরানা সমাবেশের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে ছিলেন হাইআতুল উলয়ার কো চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, সাবেক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ার সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন ও মুফতি জসিমুদ্দীন প্রমুখ।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে কওমি আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামির স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সংসদের চলমান শেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে একটি আইনও পাস হয়েছে।

এই দাবিটি কওমি আলেমদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তাদের ১৪ বছরের শিক্ষা জীবনের কোনো স্বীকৃতি না থাকায় এতদিন তারা কোনো চাকরিতে যোগ দিতে পারতেন না।

১৯৯৯ সালে বিএনপি এবং আদর্শিক ‘শত্রু’ জামায়াতের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট জোটবদ্ধ হয় কওমি সনদের স্বীকৃতির আশ্বাসে। তবে সেই স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা করেন আলেমদের সঙ্গে। কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে ভেস্তে যায় এই উদ্যোগ। তবে আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগ সফল হয়। আর এর পরই শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার আলোচনা হয়।

গণভবনে সাক্ষতে উপস্থিত একজন কওমি আলেম জানান, সংবর্ধনার বিষয়ে আমন্ত্রণ জানালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বলেন, ‘এটার জন্য সংবর্ধনা নিতে আমার লজ্জা হচ্ছে। কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি আমি আল্লাহকে খুশি করার জন্য দিয়েছি। দুনিয়াবি কোনো প্রাপ্তির জন্য নয়।’

‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাকরাইল মসজিদের জায়গা, ইজতেমা মাঠের জায়গা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইত্যাদি স্থাপন করেছেন পরকালের জন্য। আমিও দেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে স্বীকৃতি দিয়েছি।’

এসময় আল্লামা শফী বলেন, ‘মানুষের উপকারের প্রতিদান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। হাদিসে রয়েছে, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ শুকরিয়া মাহফিল করতে চাই। আমরা সেখানে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই।’

পরে সিদ্ধান্ত হয় ৫ নভেম্বর রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশ হবে। আর সেখানে ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতিও নিয়েছেন কওমি আলেমরা।

প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন আল্লামা শফী।



মন্তব্য চালু নেই