মেইন ম্যেনু

সফল ক্রিকেটার কি সফল প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন?

প্রায় দুই দশক রাজনীতি করার পর সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন।

দেশটির জাতীয় পরিষদে শুক্রবারের ভোটাভুটিতে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ পার্টির চেয়ারম্যান মি. খান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

গত জুলাই মাসের নির্বাচনে তার দল পিটিআই নির্বাচনে জয় পেলেও সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। ফলে ছোট ছোট দলগুলোর সহায়তায় তাকে দুর্বল জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে।

সংবাদদাতারা বলছেন, তার এজেন্ডার মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের বিষয়টিই প্রধান বিষয় হতে যাচ্ছে।

তিনি এমন সময় সরকার গঠন করছেন, যখন পাকিস্তান চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে।

এসব সংকট কাটিয়ে তিনি একটি ‘নতুন পাকিস্তান’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নতিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পাকিস্তানের সংকট সমাধান কতটা সহজ হবে?
পাকিস্তানের ডেইলি নিউজ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মনির আহমেদ বলছেন, পাকিস্তানের এখনকার সব সংকট সমাধান হয়তো সহজ হবে না। তবে সেটা একেবারে অসম্ভবও হবে না। কারণ ইমরান খানের নিজস্ব কিছু ক্যারিশমা রয়েছে।

”তিনি ক্রিকেটের হিসাবে সফল ছিলেন। যখন ক্যান্সার হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিলেন, সবাই বলেছিল হাসপাতাল সম্ভব না। কিন্তু সেটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতিতে আসার পর তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সেসব বাধা উপেক্ষা করে তিনি হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি যে এভাবে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করবেন, সেটাও কেউ ভাবেনি। কিন্তু তিনি এতদূর পর্যন্ত এসেছেন।”

অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান কি হবে?
নির্বাচনের সময় নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি, অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইমরান খান। কিন্তু একই সাথে মি. খান বলেছেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তা নেবেন না।

মনির আহমেদ মনে করেন, প্রবাসী পাকিস্তানিদের সহায়তা আর কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলে ইমরান খানের পক্ষে হয়তো সেটি সম্ভব হবে। বিশেষ করে দেশীয় ব্যবসায়ীদের হয়তো তিনি আরো সক্রিয় করতে চাইবেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে কতটা তিনি এড়াতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এই বিশ্লেষকের।

ছোট দলগুলোর সমর্থন কতটা ধরে রাখতে পারবেন?
দেশের অর্থনীতিক সংকট কাটিয়ে ইমরান খান নতুন পাকিস্তান গড়ার কথা বলছেন। কিন্তু সেজন্য হয়তো তাকে অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাতে শরীক ছোট দলগুলোর সমর্থন কতটা ধরে রাখতে পারবেন?

সাংবাদিক মনির আহমেদ বলছেন, ”এক্ষেত্রে ইমরান খানের ক্যারিশমা বড় ভূমিকা রাখবে।”

“কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে সবাই মুক্তি চাইছে। সহযোগী দলগুলো নিজেরাও নগণ্য আসন পেয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে আসায় তারা সরকারের অংশ হয়েছে। তারাও বুঝতে পারছে, পাকিস্তানের সংকট কাটাতে নতুন একজন নেতা দরকার। কারণ অন্য দলগুলোর পরীক্ষা তো হয়ে গেছে। তারা কিছু করতে পারেনি। এ কারণে এসব দলগুলো, বিশেষ করে তরুণরা ইমরান খানের ভূমিকা দেখতে চাইবে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইমরান খান। কিন্তু যেখানে সেনাবাহিনী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাতে তার পক্ষে কতটা সফলতা পাওয়া সম্ভব?

মনির আহমেদ বলছেন, অনেক কিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়েই ইমরান খান এ পর্যন্ত এসেছেন। এখন কতদূর কি তিনি করতে পারবেন, সেটা দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করতেই হবে।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হতে পারে?
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখার অভিযোগটি বেশ পুরনো। এবারো দেশটির বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, ইমরান খানের জয়ের পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে।

মনির আহমেদ বলছেন, সেনাবাহিনীর কাছেও অন্য কোন বিকল্প নেই। তারাও আশা করছে, মি. খানের মাধ্যমে হয়তো নতুন কোন রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। এখন দেশে যে ধরনের নেতৃত্ব দরকার বলে তারা মনে করে, সম্ভবত সেটা তারা ইমরান খানের ভেতর দেখতে পেয়েছে।

”হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে একটু আধটু বাঁধাবাঁধি হতে পারে। কিন্তু সবার বিশ্বাস, সেটি ইমরান খান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার অবসান হবে?
অর্থনৈতিক সংকট ছাড়াও উত্তরাধিকার সূত্রে আরো কিছু সংকটের মালিক হচ্ছেন ইমরান খান। এর মধ্যে যেমন ইসলামপন্থী জঙ্গি হুমকি রয়েছে, তেমনি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের বৈরিতা যাচ্ছে।

মনির আহমেদ বলছেন, ”আমেরিকাও এখন কমবেশি তালেবানকে টেবিলে নিয়ে এসে একটি বোঝাপড়া করতে চাইছে। সেক্ষেত্রে ইমরান খান হয়তো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। ইমরান খান যদি তাদের আলোচনার টেবিলে আনতে পারে, যদি কোন সমঝোতার পথ বের করতে পারে, হয়তো তখন আমেরিকার সঙ্গে অসন্তুষ্টির বিষয়টির একটি সমাধান হতে পারে।’

-বিবিসি বাংলা



মন্তব্য চালু নেই