মেইন ম্যেনু

সেই রহস্যময় ‘সুবোধ’কে খুঁজতে মাঠে গোয়েন্দারা

রাজধানীর দেয়ালগুলোতে চিকা মারা বা দেয়াল লিখন কোনও নতুন কিছু নয়। কখনও সুন্দর সুন্দর স্লোগান, উপদেশ বাণী, কবিতার ছত্র আবার কখনো বিপ্লবী ও প্রতিবাদী কথাগুলো নান্দনিক লিখনি ও চিত্রকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বকালে এরকম শত শত দেয়াল লিখন দেখা গেছে। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিন্নধর্মী ও রহস্যময় কিছু দেয়াল লিখন ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে। এমনকি এ নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থাও।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার দেয়ালে দেখা গেছে, লিখা রয়েছে- ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, সময় এখন পক্ষে না’, ‘সুবোধ এখন জেলে! পাপবোধ নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে’।

চিত্রগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, খাঁচায় বন্দী সূর্য হাতে অগোছালো চুল-দাড়ির এক তরুণকে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুবোধ’। যার শরীরের তুলনায় পা অনেক বড়, যা অনেকটাই অসম্পূর্ণ। ছবি দেখে মনে হয়, ভালো আর মন্দের সাথে জীবন-মরণ লড়াইয়ে সে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত বিধ্বস্ত আর বিপর্যস্ত চেহারার।

এই সুবোধের গ্রাফিতি গুলোর দেখা মিলছে রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও পুরাতন বিমানবন্দরের দেয়ালে দেয়ালে। এদিকে কারা কী উদ্দেশ্যে এই প্রচারণা চালাচ্ছেন সেটা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাই এর রূপকারদের খোঁজে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সূত্রমতে গোয়েন্দাদের ধারণা, এর রূপকারদের নিশ্চয় কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে। সে উদ্দেশ্য জানতে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার চৌকস টিম মাঠে কাজ করছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য এর রূপকার খুঁজে বের করা। তারা মনে করছেন, সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ চক্র এমন গ্রাফিতির জন্ম দিয়েছে। তার রহস্য দ্রুত বের করতে না পারলে সচেতন মহলে এক ধরনের ভীতি ও আতঙ্ক বাড়তে পারে।

আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনীতির ভেতর থেকে কেউ কেউ জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আবার হতে পারে, এসব গ্রাফিতির মধ্যে দেশের সবার জন্য বিশেষ কোনো বার্তা আছে। এগুলো প্রোপাগান্ডা, মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করার কৌশল।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জানান, ‘শিক্ষা, রাজনীতি, মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের অগণতান্ত্রিকতা এবং গণবিরোধিতার প্রতি ইঙ্গিত করেই এগুলো প্রচার করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। তবে যারা এটি প্রচার করছেন তারাই এর মর্মার্থ ভালো বলতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, খাঁচাবন্দি সূর্য হাতে পালিয়ে বেড়ানো এই ‘সুবোধ’ রাজধানীবাসির কাছে খুবই পরিচিত এক চরিত্র। ঢাকার আগারগাঁওয়ের দেয়ালে আঁকা কিছু গ্রাফিতিতে উঠে এসেছে সুবোধ নামের এই চরিত্র। আর সবচেয়ে রহস্যময় যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে সব দেয়ালচিত্রেই ব্যবহার হয়েছে HOBEKI?

কিন্তু এই সুবোধকে নিয়ে নগরবাসীর জনমনে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন— এই সুবোধ কে? কেনই বা তাকে পালাতে হচ্ছে? আর কোথা থেকেই পালাবে সুবোধ? আর কাদের জন্যই সুবোধকে পালিয়ে যেতে হচ্ছে? আর কেই বা তাকে পালিয়ে যেতে বলছে?

এসব প্রশ্নের নেই কোনো উত্তর। এর কোন সঠিক কারণও জানা যায় নি। তবে এই সুবোধকে নিয়ে আলোচনার ঝড়ও উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সুবোধের এই ছবি কেউ কেউ প্রোফাইল ছবি বা কভার ছবি হিসেবে ব্যবহার করছেন। আবার ছবির কথাগুলোও স্ট্যাটাস হিসেবে দিচ্ছেন অনেকে। -বিডি প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই