মেইন ম্যেনু

স্ত্রীর কিডনির জন্য হাঁটছেন হাজারো মাইল

হাঁটু গেড়ে ফুল বা আন্টি হাতে প্রেমের বা বিয়ের প্রস্তাব রোমান্টিকতার অন্যতম মাধ্যম। এ ছাড়া আরও অনেকভাবেই প্রেয়সীর জন্য রোমান্টিকতার প্রকাশ দেখা যায়। কিন্তু স্ত্রীর জন্য কিডনি চেয়ে একটি স্যান্ডউইচ বোর্ডের প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ব্যস্ত সড়কে হেঁটে চলা—এসবকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ এলাকার বাসিন্দা ওয়েইন উইন্টার্স। তাঁর বয়স ৭৪। এই বয়সে চলাফেরা করা একটু কষ্টই। বেশিক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়াতে বেশ কষ্ট করতে হয় তাঁর। তবে চলাফেরা ও দাঁড়াতে কষ্ট হলেও এখন প্রায় সারাটা দিন রাস্তায় ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন ওয়েইন উইন্টার্স। কখনো কখনো হাঁটেন মাইলের পর মাইল। কারণ, তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর জন্য প্রয়োজন কিডনি। কিডনি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এ কাজ করে যাবেন।

হাফিংটন পোস্ট ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ওয়েইন উইন্টার্সের গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝোলানো। অসুস্থ স্ত্রীর জন্য কিডনি সংগ্রহেই তিনি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়েছেন। যোগাযোগের জন্য প্ল্যাকার্ডে আছে ফোন নম্বরও। স্ত্রীর জন্য কিডনি পেতে এই প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটছেন ওয়েইন। তাঁকে অনেকে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু ও পথ না মাড়িয়ে তিনি হেঁটে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে চান। লাল কালিতে প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, ‘নিড কিডনি এ-৪ ওয়াইফ ৬৭৫-০২৭৮’। তাঁর স্ত্রীর জন্য ‘এ’ নেগেটিভ গ্রুপের কিডনির প্রয়োজন। ভালোবাসার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের গ্রুপের কিডনি না পেয়ে পথে নেমে পড়েছেন তিনি।

ওয়েইন উইন্টার্স বলেন, ‘সে (স্ত্রী) ডায়ালাইসিস পছন্দ করে না, এটা ভয়ংকর ব্যাপার। ডায়ালাইসিসের পর তাঁকে দেখতে বিধ্বস্ত লাগে। এরপরই তাঁকে দেখতে যেমন দেখায়, তা আমি কোনো দিন দেখিনি।’

ওয়েইন জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনার ল্যারি সুইলিং নামে এক ব্যক্তি একই কাজ করেছিলেন। ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীর জন্য কিডনি জোগাড় করেছিলেন। এই খবরটি পড়েই অনুপ্রাণিত হয়েছেন ওয়েইন।

স্ত্রী ড্যানি বলেন, তিনি আশা করছেন এবং তাঁর বিশ্বাসও আছে যে তাঁর গ্রুপের কিডনি পাওয়া যাবে।

ওয়েইন উইন্টার্স বলেন, ভালোবাসার স্ত্রীর জন্য কিডনি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি হাঁটার কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি কিডনি রোগ ও কিডনি দান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাবেন।






মন্তব্য চালু নেই