মেইন ম্যেনু

স্বামীর পরকীয়া জেনে ফেলায় বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ!

৩০ বছর আগে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলা ও মাইকের (ছদ্মনাম) সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। আমাদের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। মাইক মজা করে বলতো তাদের বিয়েতে আমার উচিত তার এবং একইসঙ্গে তার হবু বধূ নিকোলার সঙ্গী হতে। ২৮ বছর বয়সে আমি বিয়ে করি। একটি দুর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা যায়। হতাশায় ভেঙে পড়েছিলাম। মাইক আর্থিক সাহায্য করেছে, নিকোলা খাইয়ে দিয়েছে, নিদ্রাহীন রাতে সঙ্গ দিয়েছে। কয়েক বছর পর বেনের সঙ্গে দেখা হয় এবং আমরা বিয়ে করি। আমাদের দুইটি সন্তান ছিল। নিকোলা-মাইক ও তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে বেড়াতে যেতাম।

কিন্তু এক বছর পর সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। আমি একটি কান্ট্রি হোটেলে সম্মেলনে ছিলাম। কফি পানের সময়টাতে আমি জানালা দিয়ে মাইককে গলফ কোর্সে দেখলাম। একটি খাটো, লাল চুলের মেয়ে তার পাশে ছিল, সে মাইককে জড়িয়ে ধরলো। মাইক তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হচ্ছিল দেখে আমি বিস্মিত হই।

সারাদিন আর কাজে মনোযোগ দিতে পারিনি এবং পরে তাকে খুঁজতে বের হই। তাকে না পেয়ে মেয়েটাকে খুঁজে বের করি। সবকিছু মেলানোর চেষ্টা করছিলাম, যত ভাবছিলাম ততই রাগ হচ্ছিল। রাতে খাবারের পর আমি মেয়েটার দরজায় কড়া নাড়ি। সে দরজা খুলে দিল। মাইককে তার বিছানায় স্বল্প পোশাকে দেখলাম। মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে মাইকের সঙ্গে রাগারাগি শুরু করি। বলি যে নিকোলাকে সব বলে দিব। উত্তরে মাইক জানায়, ‘এতে আমার নাক গলানোর কিছু নেই।’ এটা বলে সে আমার হাত ধরে সেখান থেকে বের করে দিল। সারারাত জেগে ভেবেছি কীভাবে এসব নিকোলাকে বলবো। বেনকে ফোন করলাম। সেও বিস্মিত হল। কিন্তু এটাও বললো, ‘এখানে আমাদের করার কিছু নেই।’ আমি যুক্তি বললাম নিকোলার এসব জানার অধিকার আছে।

কয়েকসপ্তাহ পর নিকোলাকে কফি খাওয়ার জন্য ডাকলাম। সব বলার পর তার চোখ অশ্রুতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল এবং স্বীকার করল যে সেও এমনটা সন্দেহ করছিল কারণ মাইক অনেকটা সময় বাইরে বাইরে কাটাতো। নিকোলাকে প্রথমে দুঃখিত মনে হলেও পরে সে খুব রেগে গেল যখন জানল হোটেলে আমি মাইকের সঙ্গে রাগারাগি করেছি। নিকোলা জানাল, সে এ সম্পর্ক ভাঙতে চায় না। বলেই সে সোজা উঠে দাঁড়াল এবং চলে গেল। সেই বারই তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। এরপর চার মাস হয়ে গেছে, নিকোলাকে খুব মিস করি। মাইককেও। তাদের দুজনের কাছেই ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। নিকোলা আমার ফোন কেটে দিয়েছে। তার সঙ্গে দেখা হলেই শুধু মাথা নাড়ায়। মনে হচ্ছে মাইকের পরিবর্তে নিকোলা আমাকেই শাস্তি দিচ্ছে। আমি খুবই বিপর্যস্ত। তবে তাকে এসব বলেছি এজন্য আমি অনুতপ্তও নই। সূত্র: টেলিগ্রাফ



মন্তব্য চালু নেই